পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ময়লার ভাগাড় ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ময়লার বিশাল এক স্তূপ ধসে পাশের ঘরবাড়ির ওপর পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে।
২৩ আগস্ট (রোববার) গিনির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহরের উপকন্ঠে ববেসিয়া জেলার দার-এস-সালাম অঞ্চলে ভোররাত ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে আরো অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।
সরকারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, “আবর্জনার নিচে চাপা পড়ে থাকা সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধার, ভুক্তভোগীদের সাহায্য করা ও মরদেহ উদ্ধারে পর্যাপ্ত জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আমাদাউ উরি বাহ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে দেখা যায়, উৎসুক জনতার ভীড়ের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এক্সকাভেটর।
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা’ এবং ‘এই ট্রাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার’ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে বিদেশে নির্বাচনে থাকা গিনির অন্যতম বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেলু ডালেইন দিয়ালো এই ঘটনাকে ‘একটি গভীর দুঃখজনক দুর্ঘটনা, যা সবাইকে শোকে নিমজ্জিত করেছে’ বলে অভিহিত করেছেন।
সরকাারিভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশের আগে ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ঘটনাটি আরো বেশি উদ্বেগজনক এই কারণে যে, রবিবার (২৩ আগস্টের) মধ্যেই এই ময়লা ফেলার স্থানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল।”
তিনি আরো যোগ করেন, “এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই দুর্যোগটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।”
উল্লেখ্য, ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে বিগত কয়েক দিন ধরেই সরকার ওই আবর্জনা ফেলার স্থানের আশপাশের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে আসছিল।
গিনির নেতৃত্বে রয়েছেন জেনারেল মামাদি দুম্বুইয়া, যিনি ২০২১ সালে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করার পর মামাদি দুম্বুইয়া ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।