সরকার অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধনের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি ও বেসরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)-এর শিক্ষার্থী, সরকারি অনুমোদিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সিদ্ধান্ত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত কর্মপরিধির আলোকে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পেশাগত নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল বলেন, রাষ্ট্র নিজেই চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা শিক্ষা চালু করেছে। সরকার পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিক্ষার্থী ভর্তি, পরীক্ষা গ্রহণ, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এই জনবল নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য ১০টি কর্মপরিধিও নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা বিএমডিসির পেশাগত নিবন্ধন এবং নির্ধারিত কর্মপরিধির আওতায় সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী কর্মসংস্থান সংকট, পেশাগত বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সমযোগ্যতাসম্পন্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিএমডিসি আইনের ১৫ ধারা ও পঞ্চম তফসিল অনুযায়ী নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া বিএমডিসি আইন, ১৯৮০-এর ১৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জীবিকার প্রয়োজনে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং সেই নিবন্ধন এখনো নবায়ন করা হচ্ছে। অথচ চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা সংবিধানের ১৯, ২৬, ২৭ ও ৪০ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।
বক্তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে বিএমডিসি আইন, ২০১০-এর ৩৫ ধারার আওতায় তফসিল সংশোধন অথবা একই আইনের ৩৬ ধারার আলোকে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
মানববন্ধনে এমট্যাবের সভাপতি এ কে মুসা লিটন, মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজি অ্যান্ড ফার্মেসি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান, মহাসচিব মো. আইনুল হক, হারুনুর রশীদ, আওরঙ্গ খালেদ মোসান্নাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা ঘোষণা দেন, অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে।