৫৩তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উদযাপনকালে মর্মান্তিক এক বিমান দূর্ঘটনার শিকার হয় ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ বাহামাস। ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে৷ দেশটির রাজধানী নাসাউয়ের পশ্চিমে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নকালে শুক্রবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে আক্রান্ত হওয়া আটলান্টিক মহাসাগরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ব্রেভ ডেভিস শোক জানিয়েছেন।
এছাড়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফ্লেমিঙ্গো এয়ারের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার। একই সঙ্গে আরেকটি নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ‘ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ার’-এর উড়োজাহাজ পরিচালনা সনদ (লাইসেন্স) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার।
বাহামিয়ান উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি বাহামাসে নিবন্ধিত একটি ‘সেসনা ৪০২’ মডেলের ছোট উড়োজাহাজ ছিল। এটি নাসাউয়ের লিন্ডেন পিন্ডলিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সান অ্যানড্রসের উদ্দেশে যাত্রা করার পরপরই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বাহামাসের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ব্রেভ ডেভিস জানান, প্রথমে একজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ যখন স্বাধীনতাবার্ষিকী উদযাপন করছিল, তখন এটি একটি গভীর শোকের দিনে পরিণত হয়েছে। যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। ’
দেশটির জ্বালানি, পরিষেবা ও উড়োজাহাজ চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের স্বার্থে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান চলাচল মন্ত্রী জোবেথ কোলবি-ডেভিস জানান, শুক্রবার সকালে ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ারের আরেকটি উড়োজাহাজও বড় ধরনের নিরাপত্তা বিভ্রাট ঘটেছিল। মায়াগুয়ানাগামী ওই উড়োজাহাজটির পাইলট মাঝ-আকাশে জরুরি সমস্যা টের পেয়ে নাসাউতে ফিরে আসেন। উড়োজাহাজটি সফলভাবে অবতরণ করার পর যাত্রীরা নিরাপদে নেমে যাওয়ার পরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। পরপর ঘটে যাওয়া এই দুইটি ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এয়ারলাইনসটির সব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি