• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

পেঁয়াজ-আলু ঊর্ধ্বমুখী

বাণিজ্য ডেস্ক / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

দীর্ঘসময় থেকে চলা দেশের মূল্যস্কীতির চাপে চেপ্টা হতে হচ্ছে ভোক্তাদের। একই সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের মিল না থাকায় সাধারণ মানুষের হাসফাঁস অবস্থা। এর মধ্যেই পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি না থাকলে অদৃশ্য কারণে বাজারগুলোতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পেঁয়াজ ও আলুর দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে চাল, ডাল ও মাংসের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খরচ বেড়েই চলেছে। বিপরীতে হাতে গনা কয়েকটি মৌসুমি সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর মিরপুর, মানিকদি, মাটিকাটাসহ একাধিক বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। নতুন ও পুরোনো আলুর দামও বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় উঠেছে। গত সপ্তাহে একই আলু বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

মাটিকাটা বাজারে বাজার করতে আসা রিয়াদুল আলম বলেন, বৃষ্টি নেই, সরবরাহেও কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও নানা অজুহাতে পেঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ানো হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই পণ্যের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। মিনিকেট চালের কেজি মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৭২ টাকাও পাওয়া যেত। বিআর-২৮ ও পাইজাম চালের কেজি ৫৬ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

ডালের বাজারেও স্বস্তি নেই। মোটা দানার মসুর ডাল কেজিতে ১০৫ টাকা, মাঝারি দানার ১২০ টাকা এবং সরু দানার মসুর ডাল ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। কিছু বাজারে এখনো ৮৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা কমে ৩৪০ টাকায় নেমেছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে।

ডিমের দামও কমেছে। খামারের লাল ডিম প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে লাল ডিমের দাম ছিল ১৩০ টাকা প্রতি ডজন।

মৌসুমি সবজি কাঁকরোল, পটোল, ঢেঁড়স, কাঁচা পেঁপে, শসা ও আলুসহ বেশিরভাগ সবজিই ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একই দামে একটি লাউ কিংবা চালকুমড়াও পাওয়া যাচ্ছে।

মানিকদি বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, পাইকারিতে প্রচুর সবজি আসছে। সরবরাহ ভালো থাকায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। বিক্রেতারা জানান, শুক্রবারে ক্রেতার চাপ বাড়ায় তাজা সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি থাকে।

বাজারে দেশি শসা কেজিতে ৫০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহে দেশি শসার দাম ছিল ৭০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

চিচিঙ্গার দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ টাকায় নেমেছে। কাঁকরোল ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা এবং পটোল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দামও বাজারভেদে বেড়েছে। কাঁচামরিচের দামও আবার বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল প্রায় ১২০ টাকা।

অন্যদিকে দুই কেজি ওজনের রুই মাছ ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমযুক্ত রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে একই মাছের দাম ছিল ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকা। আর পাঙাশ মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ১৩০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা মাছের দাম বেড়ে ৬০০ টাকা হয়েছে। চাষের পাবদা ৪০০ টাকা এবং দেশি পাবদা ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ টাকা এবং সিলভার কার্প ও সরপুটি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category