নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সবচেয়ে বেশি প্রণোদনা পেতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত। এ খাতের বিকাশে সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, ব্যাটারি প্যাক হাউজিং, সোলার প্যানেল এবং লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি মাউন্টিং কাঠামো আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আয় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) খাতেও অনুরূপ সুবিধা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন, ব্যাটারি নির্মাণ, চার্জিং অবকাঠামো এবং বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে কর ছাড়ের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ইভি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের আমদানিকৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট কর ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানির ওপর বর্তমান ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অপরদিকে, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ইঞ্জিনের পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কর বৃদ্ধি করে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, ব্যাটারি, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক পণ্য, বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং বৈদ্যুতিক বাসসহ পরিবেশবান্ধব ও উৎপাদনমুখী বিভিন্ন শিল্পখাতে প্রস্তাবিত শুল্ক সুবিধাগুলো ২০৩০ বা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পান।