• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করলেন ইসি পুরোনো গাড়ি বিতর্কে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক্রোস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভৈরবে সংঘর্ষ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ প্রাথমিকে আসছে শিক্ষার নতুন নীতিমালা,নিয়োগ-বেতন কাঠামো হবে স্পষ্ট ফুটবল বিশ্বকাপ: হিলিতে পতাকা বিক্রি জমজমাট স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি মামলায় দু’জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ  পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা; ধর্ষণের দায়ে মুদি দোকানি গ্রেফতার মে মাসে আইসিসি সেরা খেলোয়ার বাংলাদেশের তাইজুল ও মুশফিকুর ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক দুই শিশু সন্তানকে কাঁঠাল খেতে দিয়ে মা ঘুমিয়ে পড়ে; পুকুরে ডুবে শিশুদের মৃত্যু 

প্রাথমিকে আসছে শিক্ষার নতুন নীতিমালা,নিয়োগ-বেতন কাঠামো হবে স্পষ্ট

ইউনাইটেড ডেস্ক: / ৩৬ Time View
Update : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার সমাধানে একটি যুগোপযোগী শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত এই নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলি, মূল্যায়ন, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতাসহ পেশাজীবনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের আলোচিত ১১তম গ্রেডের বিষয়টিও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় রয়েছে বলে আভাস মিলেছে। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হলে তা মেটাতে বাজেটেও প্রয়োজনীয় সংস্থান রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়ার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকার একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরি করছে। এই নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এতে শিক্ষকদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলি, কর্মমূল্যায়ন, পদোন্নতি এবং বেতন-ভাতাসহ পেশাজীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য সুস্পষ্ট রূপরেখা ও দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করার বড় পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শিক্ষক সংকট সামাল দিতে স্বল্পমেয়াদি একটি বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে সরকার। নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অস্থায়ীভাবে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে, সরকারের দাবি, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে একটি দক্ষ, আধুনিক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। ফলে নতুন নীতিমালা এবং শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই দুই উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ৩২ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হাজার হাজার বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমেই প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মর্যাদা, দক্ষতা ও পদোন্নতি: তিন ভিত্তিতে হচ্ছে নতুন নীতিমালা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন নীতিমালার মূল ভিত্তি হবে তিনটি বিষয়। যার মধ্যে রয়েছে— শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং একটি স্পষ্ট ক্যারিয়ার কাঠামো প্রতিষ্ঠা। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরিজীবনের বিভিন্ন ধাপে পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ কিংবা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা দূর করার লক্ষ্য নিয়েই নীতিমালাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বিশেষ করে পদোন্নতি, পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং কর্মমূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি সুসংহত কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক পেশাকে আরও আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ করতে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি সংযোজন নয়, বরং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন, নাগরিক চেতনা ও জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকবে ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

নীতিমালার আওতায় শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে অবসর পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষকরা তাদের পেশাগত অগ্রগতির বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা পাবেন বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

নতুন নীতিমালায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-কাঠামোর উন্নয়ন এবং আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে, শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের আলোচিত ও অন্যতম প্রধান দাবি ‘১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ’-এর বিষয়টি বর্তমানে সরকারের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় রয়েছে। এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হলে তা মেটাতে বাজেটেও প্রয়োজনীয় সংস্থান রাখার চেষ্টা চলছে।

সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও জানিয়েছেন, নতুন নীতিমালার ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হলে তা বাস্তবায়নের সুযোগ রাখতে বাজেটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নতুন নীতিমালার পাশাপাশি সরকারের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের ৩২ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হাজার হাজার বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমেই প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে ঝুলে থাকায় সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। ফলে দেশের প্রায় ৩২ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই প্রশাসনিক কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা, একাডেমিক তদারকি, শিক্ষার্থীদের ফলাফল মূল্যায়ন, সরকারি বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকদেরই একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময়ও কমে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় শিক্ষক সংকট বেশি, সেখানে প্রয়োজনের ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ বিবেচনায় রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষাদান কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন। এতে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে সৃষ্ট চাপ কিছুটা কমবে এবং বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হবে। তবে, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং একটি অন্তর্বর্তী বা স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি জটিলতার সমাধান এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই সংকট নিরসনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সার্বিক বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে শিক্ষকদের জন্য একটি যুগোপযোগী নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন নীতিমালার মূল লক্ষ্য তিনটি— শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং একটি সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার কাঠামো তৈরি করা। নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলি, মূল্যায়ন, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতাসহ পেশাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের দাবি ১১তম গ্রেডসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার বিষয়ও নীতিমালা প্রণয়নের আলোচনায় রয়েছে। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হলে তা মেটাতে বাজেটে প্রয়োজনীয় সুযোগ রাখার চেষ্টা করছে সরকার।

শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অস্থায়ীভাবে কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে, এটি হবে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা।’

তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি সংযোজন নয়, বরং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন, নাগরিক চেতনা ও জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকবে।

un/si


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category