নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত শিক্ষা দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।
মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়া-ভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হলে ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের চাহিদা তৈরি হবে। এর ফলে এসব বিষয়ে অধ্যয়নরত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার ক্ষেত্র তৈরি হবে। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষায় সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে কেবল সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক প্রস্তুতি তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির জন্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পাঠ্যবই চালু করা হবে। এতে চারটি অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলামে এসব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।