• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ঈদযাত্রাই তাদের শেষ যাত্রা; টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে ১৭ জনের প্রাণ গেল

Reporter Name / ৪২ Time View
Update : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ১৩০০ টাকা কমে ট্রাকে করে রওনা হন ২২ জন যাত্রী৷ কিন্তু সেই যাত্রাই হলো তাদের শেষযাত্রা! একে একে জীবন গেলো ১৭ জনের৷ তবে এ পর্যন্ত ১৫ জনের নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে

সোমবার (২৫ মে) ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে লোহার রডবাহী একটি ট্রাক রাস্তায় উল্টে গেলে ঘটনাস্থলে প্রাণ যায় ১৫ জনের। তবে পরবর্তীতে আরো দুই জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হন আরও বেশ কয়েকজন৷ তারা ইদের আনন্দ উপভোগ করতে ওই ট্রাকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। এতে ঈদ আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে।

সরেজমিন ঘুরে দেখায় যায়, দুর্ঘটনা কবলিত সড়কের পাশে ট্রাকটি উল্টে পড়ে আছে। এর মধ্যে রডগুলো মাটিতে পড়ে আছে৷ স্থানীয় লোকজন ভিড় করছেন।

রব্বানী নামে ট্রাকের এক যাত্রী ইউনাইটেড নিউজকে  বলেন, আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ করেই দেখি ট্রাকটি উল্টে গেছে৷ এরপর আর কিছুই বলতে পারবো না৷ আমরা ট্রাকে মোট ২২ জন যাত্রী ছিলাম।

ট্রাকের অপর যাত্রী তরিকুল ইসলাম  বলেন, ট্রাকটি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় যাওয়ার কথা ছিল৷ আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রামের অলংকার থেকে উঠেছিলাম। মূলত বাসের ভাড়া জনপ্রতি ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা চাওয়া হয়৷ কম টাকার জন্য আমরা ট্রাকে উঠি। আমরা ৪ জনে ২৩০০ টাকা দিই। এর মধ্যে আমার সাথের দুইজন মারা গেছে৷

নিহতের এক আত্মীয় বলেন, আমার তিন জন আত্মীয় মারা গেছে৷ রাত ১০টায় তারা নওগাঁ যাওয়ার জন্য কম টাকায় ফেনী থেকে ট্রাকে ওঠে৷ ফেনী থেকে বাস ভাড়া ১৭০০-১৮০০ টাকা চাওয়া হয়। ট্রাকে জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়৷ কিন্তু কম টাকায় ট্রাকে ওঠায় তাদের এমন মৃত্যু হলো।

স্থানীয়রা বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে আসি৷ রড কেটে যাত্রীদের আমরা উদ্ধার করি। কার আগে কে যাবে কার গতি কত দ্রুত এমন পাল্লাপাল্লি করে ওভারটেকের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া এতো বড় দুর্ঘটনা হওয়ার কথা নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, সকালে এসে দেখি ১৫ জনের মরদেহ পড়ে রয়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন৷ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানার নিয়ে আসা হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছে অবস্থিত এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান সংবাদকর্মীদের  জানিয়েছেন, মনে করা হচ্ছে ট্রাকটি দ্রুতগতির কারণে উল্টে যায়। বিপরীত দিক থেকে আসা কোনও গাড়ির ধাক্কার প্রমাণ মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ট্র্যাকটির চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সেই অবস্থায় রাস্তার ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ‌

এদিকে উদ্ধার কাজের কারণে ভোর ৪টা ২৫ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ইউনি/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category