কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অপ্রতিম হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
অবরোধের সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
এর আগে আজ সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালায়। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত করা হয়। শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গন্ধমতির বাসায় নেওয়া হলে শেষবারের মতো তাকে দেখতে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। এ সময় পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ড. নাহিদা বেগম। শনিবারও নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। এক দিনের ব্যবধানে সেই সন্তানকেই নিথর দেহে ফিরে পেতে হয়েছে তাকে। অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।