চলতি বছর একের পর এক সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। একুশে পদক ও ‘হুস হু’ পুরস্কারের পর এবার তিনি পাচ্ছেন বিশেষ সম্মাননা ‘মা পদক ২০২৬’।
আগামীকাল ১০ মে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। আলী-রূপা ফাউন্ডেশন-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল সন্তানদের গর্বিত মায়েদের সম্মান জানানো হবে।
শুধু রূপালি পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও একজন দায়িত্বশীল ও স্নেহময়ী মা হিসেবে ববিতার অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই এ পদক প্রদান করা হচ্ছে। একমাত্র ছেলে অনিককে সুশিক্ষা ও আদর্শে গড়ে তোলার জন্যও প্রশংসিত তিনি।
এ সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত ববিতা বলেন, অভিনয়জীবনে তিনি বহু রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, তবে মা হিসেবে এমন স্বীকৃতি তাঁর কাছে ভিন্নরকম আনন্দের।
তার ভাষায়, একজন নারীর জীবনে মাতৃত্বের সম্মানই সবচেয়ে বড় অর্জন।
সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীন-এর উদ্যোগে এবং মাদিহা মার্সিহা অ্যাডভারটাইজিং-এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং, আইন ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের সফল সন্তানদের মায়েদের সম্মাননা জানানো হবে।
এদিকে আগামী ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে আনন্দ মেলা-র পক্ষ থেকেও আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই বরেণ্য অভিনেত্রী।
ববিতার প্রকৃত নাম ফরিদা আক্তার পপি। বাগেরহাট জেলায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ১৯৭০-এর দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয়শৈলী, সৌন্দর্য ও আবেগঘন উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে, যার অনেকগুলোই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে বিরল কৃতিত্ব গড়েন তিনি। এছাড়া ১৯৭৬, ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালেও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা লাভ করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন ববিতা। ১৯৯৬ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ প্রযোজকের সম্মাননা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০০২ ও ২০১১ সালে পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান।
বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। সর্বশেষ দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হয়ে তিনি যোগ করেছেন গৌরবের নতুন অধ্যায়।