যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কার্গো বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে পার্কিং লটে থাকা বেশ কিছু যানবাহনের সঙ্গে বিমানটির ধাক্কা লাগে। ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত ও আরও ৫ জন আহত হয়েছে। এটি আমাজন এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান।
স্থানীয় সময় রবিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ২টার কিছু আগে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চার্টার কোম্পানি ‘২১ এয়ার’ পরিচালিত বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানের লুইস মুঙ্কোজ মারিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে এসেছিল।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন ক্যাভা পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, “উদ্ধারকারী দল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আমাদের মূল লক্ষ্য বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো।”
মিয়ামি ফায়ার সার্ভিস জানায়, আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেশ কয়েকজন যাত্রী ও পথচারী দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের নিচে আটকে পড়েছিলেন, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানে আগুন ধরে যায়। ২০০ জনেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, তবে বিমানটি থেকে তেল নিঃসরণ অব্যাহত রয়েছে।
ফ্লাইট ট্রাকিং সাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ জানায়, রানওয়ে থেকে বের হওয়ার সময় বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০৭ কিলোমিটার (১১২ নট)। ঘটনার সময় বিমানবন্দরে মৃদ্যু বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়া বইছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ততম ট্রাভেল উইকেন্ডের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটায় মিয়ামি বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় কয়েক শ’ ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়।
আমাজনের করপোরেট গ্লোবাল মিডিয়া রিলেশন্সের পরিচালক কেলি ন্যান্টেল এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে বলেন, “এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে আমরা তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহায়তা করছি।”
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি