প্রাবাসিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিদেশি নথিপত্র বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান সংশোধন প্রক্রিয়ার নিয়ম প্রবাসীদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের এনআইডিতে বিশেষ করে বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদেশি কাগজপত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রবাসী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করতে পাসপোর্টের পাশাপাশি জব আইডি, রেসিডেন্স কার্ড, বিএমইটি কার্ড, ভিসার কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে অনলাইন ডকুমেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের জন্মের ক্রমানুসার এবং বাবা-মা, ভাই-বোনের সঙ্গে বয়সের যৌক্তিক পার্থক্য রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে। এজন্য ওয়ারিশ বা পারিবারিক উত্তরাধিকার সনদ বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সনদে পরিবারের সদস্যদের এনআইডি নম্বর না থাকলে ভাই-বোনের জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ বা পাসপোর্টের তথ্য সংযুক্ত করতে হতে পারে।
তবে প্রকৃত প্রবাসী ছাড়া অন্য কেউ যাতে প্রবাসী পরিচয় ব্যবহার করে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ না পান, সে বিষয়েও সতর্ক থাকবে ইসি। এ জন্য পাসপোর্টে বিদেশ গমন ও দেশে ফেরার তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিএমইটি ও ইমিগ্রেশন ডাটাবেজের সঙ্গে এনআইডি তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, এনআইডি অন্যান্য সাধারণ কার্ডের মতো নয়। এর সঙ্গে বিচারিক, উত্তরাধিকার, আইনি, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় জড়িত। তাই প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ করে বাস্তবভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে কেস-বাই-কেস সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধন-সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় নিয়ে একটি ওয়ার্কশপ করা হবে। সেখানে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। নতুন করে সুইডেন, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে কার্যক্রম শুরু হলে এ সংখ্যা ১৯টি দেশে পৌঁছাবে।