নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর বেলাবোতে সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক সিএনজিচালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত চালককে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। একই সাথে ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হোসেননগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি হোসেননগর এলাকার এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছোট মেয়ে এবং স্থানীয় শহীদ নজিবুদ্দিন খাঁন একাডেমির প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বিকেলে সে তার ১২ বছর বয়সী এক আত্মীয়ের সাথে বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার পূর্ব হরিপুর গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে সিএনজিচালক ইমরান মিয়া (২২) শিশুদের ‘মজা’ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে সিএনজিতে তুলে নেয়।
পরবর্তীতে সিএনজিটি হোসেননগর গ্রামের মিলন মার্কেট সংলগ্ন রাস্তার পাশে থামিয়ে বড় শিশুটিকে গাড়িতে বসিয়ে রেছে ভুক্তভোগী শিশুকে ইমরান সিএনজি থেকে নামিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বেগুন ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে তার পরনে থাকা হ্ফপেন্ট খোলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ধর্ষণচেষ্টাকালে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে অভিযুক্ত ইমরান তার মুখ চেপে ধরে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে শিশুটি ওই চালকের হাতে কামড় দিয়ে পুনরায় চিৎকার শুরু করে। শিশুর চিৎকারে পাশের জমিতে কর্মরত সাজেলা বেগম (৩৫) নামের এক নারী এগিয়ে এসে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করেন।
এসময় সাজেলা বেগমের চিৎকারে আশপাশের সাধারণ মানুষ ছুটে এসে অভিযুক্ত চালক ইমরানসহ তার সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি (রেজিঃ নং-কিশোরগঞ্জ-থ-১১-১৭৮৭) ঘেরাও করে ধরে ফেলে। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে উত্তম-মাধ্যম দেয়। খবর পেয়ে বেলাবো থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা লাকী বেগম জানান, “আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে আছেন। আমার অবুঝ সন্তানকে ফুসলিয়ে নিয়ে যে পাশবিক নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে, আমি তার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। পুলিশকে লিখিতভাবে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
বেলাবো থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইমরান মিয়া বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ইউনি/শাহোরা/