নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করায় ঢাকামুখী লেনে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।
সোমবার (১৮ মে) সকালে সেতুর মেরামতকাজ শুরুর পর মদনপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তবে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি দীর্ঘ সময় আটকে আছে। অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা।
দোয়েল পরিবহনের যাত্রী স্বর্ণা আক্তার বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১০ মিনিট লাগে, সেখানে আজ আড়াই ঘণ্টা ধরে যানজটে বসে আছি। অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল, সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি। আগে থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নিলে দুর্ভোগ কমানো যেত।’
ঢাকাগামী ট্রাকচালক রিপন সরকার বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে মেঘনা সেতু পার হওয়ার পর থেকেই যানজটে আটকে আছি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গাড়ি খুব ধীরগতিতে চলছে।’
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় আটকে থাকা প্রাইভেটকার চালক মো. ইয়াছিন মোল্লা বলেন, ‘আড়াই ঘণ্টা বসে থেকেও মেঘনা ব্রিজ পার হতে হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এ পথ যেতে ৮ থেকে ১০ মিনিট লাগে।’
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, ‘লাঙ্গলবন্দ সেতুর একপাশে সংস্কারকাজ চলায় একটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্য পাশ দিয়ে দুই দিকের যানবাহন চলাচল করায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে সেতুর সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। সাময়িক কিছু ভোগান্তি হলেও কাজ শেষ হলে যানজটের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।’
ইউনি/শাহোরা/