নরসিংদীর চরাঞ্চলে মামলার তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ৬ পুলিশ সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের মারধর করার পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করিয়ে মাফ চাইতে বাধ্য করেন।
শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও সাতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা পরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানার এএসআই নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা হাবিব রহমান হাবিকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে এসআই রামকৃষ্ণ দাস, এসআই কামরুজ্জামান খান, এসআই আল নোমান মুন্সি, এএসআই নাজমুল হোসেন, এএসআই সুমন মিয়া ও কনস্টেবল হাদিস মিয়া স্পিডবোটে ওই এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের কাজে বাধা দেন এবং অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের কারণ জানতে চান।
একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে শতাধিক লোক পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ধরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ সদস্যদের মারধরের পর কান ধরে ওঠবস করিয়ে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর র্যাব, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন তাহসি বেগম, খোরশেদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগী।
তবে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক পুলিশ সদস্যদের কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।