• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

অনলাইনে হাজিরা দিতে গাছের ডালে প্রধান শিক্ষক

শিক্ষা ডেস্ক / ২৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। সেই নির্দেশনা মানতে গিয়ে নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় পড়েন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। পাহাড়ের ওপর একটি আম গাছে উঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনলাইনে হাজিরা পাঠান তিনি। তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা – সমালোচনা শুরু হয়।

শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, “১৫ জুন (সোমবার) থেকে অনলাইনে শিক্ষক হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমার স্কুলটি পাহাড় থেকে প্রায় ৩০০-৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত। সকালে স্কুলে এসে হাজিরা খাতার ছবি তুলে পাঠানোর জন্য প্রথমে ছাদে উঠি। সেখানে নেট ছিল না। এরপর ৩০০-৪০০ ফুট পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেও নেট পাচ্ছিলাম না। অবশেষে আম গাছের ডালে উঠার পর নেট পাই। সেখান থেকে অনেক কষ্টে টিও (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের) স্যারের হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবিটা পাঠাই।”

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, “উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পেয়েছি। ২৮টি স্কুলের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাইনি।”যে হাজিরা পেয়েছেন তা যথাসময়ে পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যেখানে ফোর জি নেট রয়েছে সেগুলো অনলাইনে পেয়েছি আর যেখানে ফোর জি নেট নেই সেই স্কুলগুলো মোবাইলে ম্যাসেজ করে দিয়েছে।”
অনলাইন হাজিরা নিয়ে জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, “অনলাইনে শিক্ষক হাজিরার বিষয়টা অবশ্যই সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আমরা সরকারের যেকোনও সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। অনলাইন হাজিরা সমতলের শিক্ষকরা যত সহজে পারবেন, পাহাড়ে তা অনেক কঠিন ব্যাপার। কারণ রাঙামাটি জেলার এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক তো দূরের কথা, বিদ্যুৎও পৌঁছায়নি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কথা বাদ দিলাম, রাঙামাটি সদরের অনেক জায়গায়ও এখনো ঠিকমত নেট পাওয়া যায় না। তাই পাহাড়ের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।”

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) কফিল উদ্দিনের জানান, আপাতত নির্দেশনা হলো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য কালেক্ট করা। যেগুলো নেটওয়ার্কের আওতায় আছে সেগুলোর তথ্য দিচ্ছি। যেগুলো মোবাইল এসএমএসে সম্ভব সেগুলো কালেক্ট করছি। বাকিগুলোর তালিকা পাঠাব ঢাকায়। সেখানকার নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জেলার ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথমদিন (সোমবার) ৫৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় শিক্ষক হাজিরা পাওয়া যায়নি।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category