• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

রেস্তোরাঁ খাতের উন্নয়নে মালিক সমিতির ৭ প্রস্তাব

বাণিজ্য ডেস্ক / ২০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

রেস্তোরাঁ খাতের উন্নয়ন, কর-ভ্যাট কাঠামো সংস্কার এবং ব্যবসা সহজীকরণে মোট সাতটি প্রস্তাব দেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত উৎসে কর প্রত্যাহার এবং রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় অভিন্ন কর কাঠামো চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করেছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এলপিজি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ খাত বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ও কর আরোপ করা হচ্ছে, যা বৈষম্য তৈরি করছে। এ কারণে সব ধরনের রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার জন্য ৫ শতাংশের একক ভ্যাট ও করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।”

ইমরান হাসান বলেন, “স্ট্রিট ফুডসহ সব ধরনের খাদ্য সেবা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে বাজারে সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।”

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত উৎসে কর ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই বেড়েছে। এ অবস্থায় নতুন কর আরোপ করলে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকার বাইরে রেস্তোরাঁ ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর কর রেয়াত দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়। বিশেষ করে নতুন রেস্তোরাঁ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ ও দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তে ও স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাট পরিশোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়। সমিতির দাবি, ভ্যাট আদায়ের সময়সীমা মাসিক থেকে তিন মাসে উন্নীত করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে আগের মতো মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধের ব্যবস্থা বহাল রাখা উচিত।

এছাড়া রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু, পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনের নেতারা বলেন, “বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২টি অনুমোদন নিতে হয়। ফলে ব্যবসা পরিচালনা সময়সাপেক্ষ, জটিল এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category