বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে শুনানি চলাকালে এক আইনজীবীকে মারধর, কার্যালয়ে অবরুদ্ধকরণ এবং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নিকুঞ্জ বালা পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক আইনজীবী। এসময় ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, আ.লীগ শাসনামলের মতই পলাশ বিএনপি সরকার আমলেও সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জবরদখল, প্রবাসীদের আমানত আত্মসাৎসহ নানা অপকর্ম করছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী সঞ্জিত মণ্ডল এসব অভিযোগ করেন। তিনি উজিরপুর উপজেলার পটিবাড়ি গ্রামের হরিমোহন মন্ডলের ছেলে। অভিযুক্ত নিকুঞ্জ বালা পলাশ (৪৫) হলেন একই গ্রামের আনন্দ লাল বালা- এর ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে আইনজীবী সঞ্জিত মণ্ডল জানান, প্রায় ২ মাস পূর্বে পটিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ মণ্ডল গং তাঁকে বিবাদী করে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে একটি মিথ্যা তথ্য সংবলিত মামলা (নং-২৮৬৩২/২৬) দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে বাদী নিজে থেকেই মামলাটি প্রত্যাহার করতে চাইলে তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান ফ্যাসিবাদের এই দোসর নিকুঞ্জ বালা পলাশ।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী আইনজীবী জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে সহকারী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. শাহজাহানের কার্যালয়ে ওই মামলার শুনানির সময় নির্ধারিত ছিল। শুনানি চলাকালে মামলার কোনো পক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও ৫-৭ জন বহিরাগত নিয়ে হঠাৎ কক্ষে প্রবেশ করেন নিকুঞ্জ বালা। তিনি শুনানিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও হট্টগোল শুরু করলে আইনজীবী সঞ্জিত মণ্ডল অনধিকার চর্চার কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিকুঞ্জ ও তাঁর সহযোগীরা আইনজীবীর ওপর চড়াও হন, তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং কার্যালয়ের দরজায় অবরুদ্ধ করে “তোকে মেরে ফেলব” বলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রাজনীতি ও সাংবাদিকতার আড়ালে ভূমিদস্যুতা ও সম্পত্তি দখল প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী বলেন, নিকুঞ্জ মূলত একজন সুযোগসন্ধানী ও প্রতারক। পটিবাড়ি মৌজার (জেএল নং ৭, এসএ খতিয়ান ৩১০) বিচারাধীন জমির প্রায় তাদের ৫০ শতাংশ পারিবারিক জায়গা জবরদখল করে জোরপূর্বক মাটি ভরাট ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন তিনি। আদালতে চলমান আইনি লড়াই নস্যাৎ করতেই পেশিশক্তি ব্যবহার করে তিনি এই হামলা চালিয়েছেন। এমনকি নিজের জীবদ্দশায় থাকা বৃদ্ধ বাবার সম্পত্তিও ছলচাতুরী করে নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেওয়ার মতো প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিকুঞ্জ বালা পলাশ মূলত একজন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল। তাছাড়া যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের পরিচয় ব্যবহার করে দালালি করাই তাঁর কাজ। ছাত্রজীবনে জাসদ ছাত্রলীগ করা নিকুঞ্জ পরবর্তীতে ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ভেড়েন। ২০২২ সালে উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির নির্বাহী সদস্য পদ বাগিয়ে নেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিচয় পাল্টে বিএনপি ও স্থানীয় প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দালালি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দায়েরকৃত মামলার বাদি সুভাষ মন্ডল গং এর পক্ষে ভাই সুশীল মন্ডল এবং নিকুঞ্জ বালা পলাশের ভূমি দস্যুতার ভুক্তভোগী প্রান্ত মন্ডল।