দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। ধান কাটার পর একই জমিতে আলু, সরিষা, ভুট্টা ও শীতকালীন শাকসবজি চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদন করে বাড়তি লাভের আশা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ঘোড়াঘাট পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নে মোট ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান। অক্টোবরের শুরু থেকে এসব ধান কাটা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কৃষকেরা পাকা ধান কাটছেন, কোথাও চলছে ধান মাড়াই ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি। আবার ধান কাটার পর দ্রুত জমি প্রস্তুত করছেন কেউ কেউ। আগাম ধান ঘরে তোলার পর স্বল্প সময়ে অন্য ফসল চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ জাতের ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের ভর্নাপাড়া গ্রামের কৃষক মো. মাসুদ বলেন, “আমি প্রায় তিন বিঘা জমিতে লাল তীর, জটাপাড়ীসহ আগাম জাতের আমন ধান চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ১৮ মণ ফলন পেয়েছি। ধান কাটার পর এসব জমিতে আগাম ভুট্টা ও আলু চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
একই উপজেলার গুয়াগাছী গ্রামের কৃষক মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে লাল তীর জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। এতে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পেয়েছেন।
কৃষকেরা জানান, বর্তমানে প্রতি মণ কাঁচা ধান ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ধান কাটার পর কাঁচা খড় বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির খড় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যাচ্ছে। গোখাদ্য হিসেবে কাঁচা খড়ের চাহিদা থাকায় এটি তাঁদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
উপজেলার এক কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে এক একর জমিতে ব্রি ধান-৭৫ ও জটাপাড়ী জাতের ধান চাষ করে তিনি প্রায় ৫৫ মণ ফলন পেয়েছেন। প্রতি মণ কাঁচা ধান ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন তিনি।
সিংড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোমদেল হোসেন বলেন, ধানসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ফসলে রোগবালাই দেখা দিলে জমিতে গিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, সাধারণত জুলাই মাসের শুরুতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ করা হয়। রোপণের প্রায় ১১০ দিনের মধ্যে এসব ধান ঘরে তোলা সম্ভব। আগাম জাতের ধানে ভালো ফলনের পাশাপাশি কাঁচা খড় বিক্রি করেও কৃষকেরা বাড়তি অর্থ আয় করতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে হিরা-২, জটাপাড়ী, লাল তীর, ধানী গোল্ড, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৪৯, বিনা-৭ ও বিনা-১৭সহ বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগাম জাতের ধান চাষের ফলে কৃষকেরা তুলনামূলক আগে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। এরপর একই জমিতে আলু, সরিষা, ভুট্টা ও শীতকালীন শাকসবজি চাষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব জমিতে বোরো ধানও চাষ করা সম্ভব। তাই কৃষকদের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন ও লাভের সুযোগ বাড়াতে আগাম জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।