আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন জাতীয় পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইনের শাসনের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলটির প্রেসিডিয়াম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “অপরাযে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাও জরুরি।”
দেশের মানুষ এখন নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। এসব সংকট সমাধানে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “মানুষ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি চায়। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারে—সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। জাতীয় পার্টি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।”
সভায় জাতীয় পার্টির নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টেপা, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারমানের বিশেষ সহকারী বেগম নাসরিন জাহান রতনা, প্রেসিডিয়াম সদস্য-জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহ ইয়া চৌধুরী।