• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন

নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুনভাবে সাজাচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূল ধারার বাইরে রেখে টেকসই জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকার নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে।

১৫ সেপ্টেম্বর ( মঙ্গলবার)সকালে, সিরডাপ মিলনায়তনে এক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাগরিক সমাজ সংস্থার উদ্যোগে টেকসই যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ক এ জাতীয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। ফলে তৎকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুরো মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দিকে। কিন্তু বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০% মানুষ শহরে বাস করে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ‘আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারার অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, এতদিন নগর স্বাস্থ্য মূলত সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেই মডেলের নমনীয়তা ও ইতিবাচক দিকগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে এখন সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে।

নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। বিদ্যমান ৪০ হাজার কর্মীর সঙ্গে এই নতুন বাহিনীকে একই কাঠামোর আওতায় সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীদের হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডিজিটাল অ্যাপ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা ও সঠিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক সেবা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নগরের ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া (৫০ হাজার থেকে ১ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ইউনিট) নির্ধারণ করে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
নগর স্বাস্থ্যসেবার রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমেই এমন একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী; পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category