• রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন

হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ষোঘণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ইউনাইটেড ডেস্ক / ১২ Time View
Update : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করার ষোঘণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে দালাল মুক্ত করতে র‌্যাব ও ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে। তাদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে অনেক হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যার নির্মিত জেলা হাসপাতাল ও হাম চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি শ্রেণি রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত আছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা করা হচ্ছে। অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভুয়া চিকিৎসক ও সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশন করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমে সময় লাগবে। অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের আসা-যাওয়ার সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিয়ে ছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগের কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে। কেউ খবর পাননি। কেউ কাজের ব্যস্ততায় সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে নিতে পারেননি। আবার কারো সন্তান স্কুলে থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন কার্যক্রমটি শেষ করলাম, তখন বুঝতে পারলাম ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত হয়নি। এর মধ্যে নতুন শিশুও যুক্ত হয়েছে। ফলে একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণেই টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে এখন হাম দেখা দিচ্ছে।

কর্মসূচির সময় বয়সের কারণে কিছু শিশুও টিকা পায়নি। পরে তারা টিকার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় টিকা থেকে বাদ পড়ে বলেও জানান তিনি।

সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকা কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসমানী হাসপাতালের পরিবেশ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন ডাক্তার বা নার্স নিয়োজিত রয়েছেন। এই সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত বিরামহীনভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category