• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

ভূমি প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব সেবায় রূপান্তর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভূমি-সংক্রান্ত সেবাকে দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে, একই সঙ্গে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, অতীতে একটি নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহ বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো সাধারণ সেবা নিতে মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রের খপ্পরেও পড়তে হতো। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন, আবেদন যাচাই, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, আবেদন ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন সেবা চালু হওয়ায় জনগণ ঘরে বসেই অনেক কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।

মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ডিজিটাল সেবা চালু করা নয়, বরং সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা। এজন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। জনগণের সেবা প্রদানে অবহেলা, অযথা বিলম্ব কিংবা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, তা পরিচালনার জন্য দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল প্রয়োজন। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সেবা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সহায়তা আরও সহজে প্রদান করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ ও সরকারি সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।’

ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা আরও সুনির্দিষ্টভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও নির্ভুল হবে। এতে সরকারি সহায়তার অপব্যবহার কমবে এবং জনগণের জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর হবে।

মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ভূমি তথ্য, কৃষক তথ্য ও পারিবারিক তথ্যের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একই সঙ্গে কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভূমি সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।

ভূমি অফিসে দালালনির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অনলাইন সেবা চালুর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ অনেক কমে এসেছে। পাশাপাশি প্রতিটি ভূমি অফিসে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা, নির্ধারিত সময়ে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা এবং নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাল দলিল, ভুয়া রেকর্ড ও একই জমি নিয়ে একাধিক দাবির মতো অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে জমির তথ্য সহজে যাচাই করা যাবে, যা ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সরকারি পদ্ধতিতে কিংবা অনলাইনে ভূমি সেবা গ্রহণ করুন। কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার হলে প্রশাসনকে জানান। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এজন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তারা পুরস্কৃত হবেন। অন্যদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভূমি রেকর্ড, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ডিজিটাল মানচিত্র এবং অন্যান্য সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ এগিয়ে চলছে। এতে নাগরিকরা এক জায়গা থেকেই অধিকাংশ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আধুনিক ভূমি প্রশাসনের বিকল্প নেই। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর। ভূমি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান নিশ্চিত করা হবে। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। জনগণের স্বার্থে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সুত্র: বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category