• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

দেশকে সংকটের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

ইউনাইটেড ডেস্ক / ১৫ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পরও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রশাসনিক অদক্ষতা জাতিকে আবারো সংকটের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নজিরবিহীন দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডিতে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই পোস্টে তিনি দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন এবং বাংলা বদ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক।”

তিনি বলেন, “১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এ ভূখণ্ডের মানুষের প্রতিরোধ শুরু হয়।” তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাবকে তিনি সেই সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোস্টে তিনি আরো বলেন, “ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।” রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে বহু স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর বারবার আঘাত এসেছে এবং এক-এগারোর কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথাকথিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তার ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের নামে মুজিববাদী আদর্শের ভিত্তিতে আওয়ামী জুলুমতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর ফলে গণতন্ত্র, সুশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কোটা সংস্কার আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়। ওই রক্তাক্ত অধ্যায় থেকেই প্রতিরোধের নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়। ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, প্রবাসী, সৈনিক, তরুণ সেনা কর্মকর্তা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্টের বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, ৫ আগস্টের বিজয়ের পরও শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতা এবং ক্ষমতালিপ্সার কারণে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের গণআকাঙ্ক্ষা পরাজিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে প্রদত্ত জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং চব্বিশসহ সব গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ রিয়া গোপ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ সব শহীদের রেখে যাওয়া মাতৃভূমির মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।েদে সংকটের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পরও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রশাসনিক অদক্ষতা জাতিকে আবারো সংকটের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নজিরবিহীন দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডিতে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই পোস্টে তিনি দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন এবং বাংলা বদ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক।”

তিনি বলেন, “১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এ ভূখণ্ডের মানুষের প্রতিরোধ শুরু হয়।” তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাবকে তিনি সেই সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোস্টে তিনি আরো বলেন, “ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।” রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে বহু স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর বারবার আঘাত এসেছে এবং এক-এগারোর কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথাকথিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তার ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের নামে মুজিববাদী আদর্শের ভিত্তিতে আওয়ামী জুলুমতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর ফলে গণতন্ত্র, সুশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কোটা সংস্কার আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়। ওই রক্তাক্ত অধ্যায় থেকেই প্রতিরোধের নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়। ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, প্রবাসী, সৈনিক, তরুণ সেনা কর্মকর্তা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্টের বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, ৫ আগস্টের বিজয়ের পরও শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতা এবং ক্ষমতালিপ্সার কারণে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের গণআকাঙ্ক্ষা পরাজিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে প্রদত্ত জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং চব্বিশসহ সব গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ রিয়া গোপ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ সব শহীদের রেখে যাওয়া মাতৃভূমির মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category