• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন

অস্থিরতা বেড়েছে চালের বাজারে

বাণিজ্য ডেস্ক / ২২ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ধান-চালের মৌসুমে দেশের বাজারগুলোতে চালের দাম ভোক্তার নাগালের মধ্যেই থাকে। কিন্তু বোরো মৌসুম শেষ হতে না হতেই দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে চালের দাম। অথচ চাহিদার ৫০ শতাংশ চাল আসে এই মৌসুম থেকে। সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চাল দামে আবারো অস্থিরতা বেড়েছে। ​তবে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে ডিম ও মুরগির বাজার। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেশ কমেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে সবজি, পেঁয়াজ ও আলুর দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

​সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্যও চালের দাম বৃদ্ধির এই চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে বাজারে চিকন চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। মাসখানেক আগে যে চিকন চালের দাম সর্বনিম্ন ৭০ টাকায় নেমেছিল, তা এখন আবার বেড়ে ৭২ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা।

​ঢাকার খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভালো মানের যে চিকন চালের দাম কিছুদিন আগে ৩ থেকে ৫ টাকা কমে ৮০ থেকে ৮২ টাকায় নেমেছিল, তা এখন আবার বাজারে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​চালের বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মাঝারি ও মোটা চালের ওপর। টিসিবির হিসাবে, মাঝারি মানের চালের দাম ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে যে মাঝারি মানের চাল ৫২ টাকায় নেমেছিল, তা এখন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক মাস আগে ৪৮ টাকায় নেমে যাওয়া মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়।

​মুদি দোকানি মিজান বলেন, পাইকারি বাজারে কিছুদিন ধরেই চালের দাম বাড়তি। বেশি দামে কেনার কারণে আমাদেরও খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে যেসব ব্যবসায়ী সম্প্রতি পাইকারি বাজার থেকে নতুন করে চাল কেনেননি, তাদের কেউ কেউ এখনো আগের দামেই চাল বিক্রি করছেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত কোরবানির ঈদের সময় পরিবহন সংকটের কারণে চালের সরবরাহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যা এখন স্বাভাবিক হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়াও চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

স্থিতিশীল সবজি ও আলু-পেঁয়াজের বাজার

​সাধারণত বছরের এই সময়ে সবজির দাম কিছুটা চড়া থাকলেও এখন বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল। বাজারে লম্বা বেগুন ও করলা প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়শ ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুরমুখী, গোল বেগুন, বরবটি, ধুন্দল ও ঝিঙে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং চিচিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ছোট পটোল মিলছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় আর শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

​এদিকে, বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​স্বস্তি ডিম ও মুরগিতে

​চালের বাজারে বাড়তি খরচের বিপরীতে স্বস্তি দিচ্ছে ডিম ও মুরগির বাজার। বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম আরও কমে প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​কমেছে ফার্মের ডিমের দামও। মাসখানেক আগেও যে ডিমের ডজন ১৫০ টাকায় ঠেকেছিল, তা এখন বাজারে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category