নিজেদের অবস্থান থেকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫৯ ধাপ এগিয়ে থাকা দল ইরানের কাপন ধরিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ইরানের মুহুর্মুহু আক্রমণ গোলবার রক্ষা করতে পারেনি ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে। যদিও র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে ইরানের অবস্থান ২৩-এ, নিউজিল্যান্ড ৮২-তে।
এবারের আগে ১৯৮২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে খেলেছিল নিউজিল্যান্ড। প্রথমবার তিন ম্যাচে হারলেও পরেরবার তিনটিতেই ড্র করেছিল দলটি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে প্রায় সব আলোচনা ছিল ইরান দলকে নিয়েই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ফেডারেশন সভাপতিসহ কয়েকজনের ভিসা না পাওয়া, বেজক্যাম্প মেক্সিকোয় সরিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের আগের দিন পা রাখাসহ প্রায় সব আলোচনাই ছিল ফুটবলের বাইরের।
আজ ম্যাচের দিনও সোফাই স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন একদল ইরানি প্রবাসী, যাঁরা দেশটির বর্তমান শাসনকাঠামোর বিরোধী। এমনকি খেলা শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে ইরানের জাতীয় সংগীতের সময় দুয়োও দিয়েছে গ্যালারির একাংশ।
সব ছাপিয়ে খেলা যখন শুরু হলো, তখন ইরানের খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জ ছিল পারফরম্যান্স দিয়ে বাকি সবকিছুকে ভুলিয়ে দেওয়ার। তবে সেখানেও তাদের চাপেই রেখেছে ১ যুগ পর বিশ্বকাপে অংশ নেয়া নিউজিল্যান্ড।
ওশেনিয়া থেকে উঠে আসা দলটি ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায়। ক্রিস উডের বাড়ানো বল জোরালো হাফ ভলিতে জালে পাঠান এলিজা জাস্ট। ইরান ম্যাচে গতি খুঁজে পায় ডিহাইড্রেশন বিরতির পর। ৩২ মিনিটে দলটিকে সমতায় ফেরান রামিন রেজাইয়ান।
এর আগে মেহদি তারেমির বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তীয়ার্ধেও প্রথম গোলটি নিউজিল্যান্ডই করে। এবারও উডের কাছ থেকে পাওয়া ইরানের গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান জাস্ট।
৫৪ মিনিটে ২-১ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার ১০ মিনিট পর আবারও সমতায় ফেরে ইরান। এবার রেজাইয়ানের ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান মোহাম্মদ মোহেবি।