নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীতে একটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। মামলা দায়ের মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার সাথে জড়িত মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত বিভাটেক গাড়ি ও ৪টি ব্যাটারি।
সোমবার (১৫ জুন) নরসিংদী সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনয়ে এ তথ্য নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ।
এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিধশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সুজন চন্দ্র সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আশিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল সজীব শাহরীন, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এআর এম আল মামুন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ বলেন, নিহত সারোয়ার হোসেন (২২) নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী গ্রামের হাজী রহমানের ছেলে। তিনি নরসিংদী শহরতলীর টাওয়াদী এলাকায় নুরু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন এবং পেশায় বিভাটেক (মিশুক) চালক ছিলেন।
গত শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুর আনুমানিক পৌনে তিনটার দিকে সারোয়ার হোসেন প্রতিদিনের মতো টাওয়াদী এলাকার জুয়েল মিয়ার গ্যারেজ থেকে তার মিশুক নিয়ে বের হন। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে রবিবার দিবাগত রাত (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সদর মডেল থানার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা শাখা নদীর বেড়িবাঁধের দক্ষিণ পাশে একটি ঝোপের মধ্যে থেকে সারোয়ারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৭, তারিখ ১৫ জুন ২০২৬; ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুকের নির্দেশনায় নরসিংদী মডেল থানার একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ এবং ঘটনায় জড়িত দুইজনকে নরসিংদী মডেল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত বিভাটেক ও ৪ ব্যাটারি উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।