• সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

বাজেটের কাঠামো অকার্যকর ও অত্যন্ত দুর্বল: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাণিজ্য ডেস্ক / ৩৮ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ফাইল ছবি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের নীতিকাঠামো মোটামুটিভাবে একটি চিন্তাশীল নীতিকাঠামো। কিন্তু এই কাঠামোটি অত্যন্ত দুর্বল, সম্ভবত অকার্যকর আর্থিক কাঠামোর ওপর স্থাপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোও দুর্বল। এর ফলে বাজেট একদিকে আর্থিক কাঠামোগত দুর্বলতায় আক্রান্ত হয়েছে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির যে মডেল সামনে আনা হয়েছে তার যৌক্তিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিং এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এর আয়োজন করে। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট প্রণয়নে ব্যবহৃত তথ্য-উপাত্তের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা, অমনোযোগ এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘ছলচাতুরী’ করা হয়েছে। তথ্য নিয়ে ছলচাতুরী করলে সেটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগের সরকারও প্রবৃদ্ধিকে বাড়িয়ে বলা, মূল্যস্ফীতিকে কম দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন না করার মতো কাজ করেছে। বর্তমান সরকারও যদি সেই পথে হাঁটে, তাহলে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক, বলেন তিনি।

বাজেট বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাজেট বাস্তবায়নে জনগণের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক চাপ ও নজরদারি প্রয়োজন। প্রস্তাবিত বাজেটের অধিকাংশ প্রাক্কলন ৩০ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়নি। বরং গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রস্তুত করা তথ্যের ওপর নির্ভর করে মধ্যমেয়াদি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ফলে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সর্বশেষ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সব প্রাক্কলন ও লক্ষ্যমাত্রা হালনাগাদ করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের চায়: গ্রাহক ফোরাম
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর দ্বিগুণের প্রস্তাব পেনশনভোগীদের

ড. দেবপ্রিয় বলেন, চলতি তথ্যের ভিত্তিতে প্রাক্কলন ও লক্ষ্যমাত্রা হালনাগাদ না করলে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজারকে সঠিক সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা তৈরি হবে। এতে সরকার নিজেই বিভ্রান্ত হতে পারে।

তিনি ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর পর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সংসদে বিবৃতি দেওয়ার বিধান পুনরায় কার্যকর করার আহ্বান জানান। তার প্রত্যাশা, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থমন্ত্রী প্রথম অর্থনৈতিক বিবৃতি উপস্থাপন করবেন।

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিডির এই ফেলো। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাজেটের হিসাব মেলাতে এক ধরনের কৃত্রিম রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরে সেই বোঝা গিয়ে পড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

তার মতে, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, কর প্রশাসনের সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত না করে এনবিআরের ওপর অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের চাপ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category