ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সাথে ব্যাংক খাতের অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৫ জুন (সোমবার) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নূরনবী মানিক।
গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
নূরনবী মানিক আরও বলেন, গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করায় গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্রাহকেরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আস্থা পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।
সংগঠনের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় প্রভাব বিস্তার করে এবং পরবর্তীকালে ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণের নামে বের করে নেয়। এসব অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও দাবি করেন তারা।
গ্রাহক ফোরাম সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, জোরপূর্বক দখল করা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, অভিযুক্ত লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার করা।