ইরানের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার রাতে আরও কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপ এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এমন এক সময়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো, যখন গত বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নাজুক যুদ্ধবিরতি এবং চলমান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি সমঝোতা নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা আগের তুলনায় আরও সক্রিয় হয়েছে।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানে আজ রাতে আরও কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তাদের অধিকাংশ আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ইতোমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে।’
ইরানের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা খারগ দ্বীপ ও অন্যান্য তেল স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসব।’
ট্রাম্পের এই নতুন হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার কারণে গত এপ্রিলের শুরুতে যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছিল, তা এখন কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর দুই দিন পর, ২ মার্চ থেকে লেবাননেও হামলা চালাতে শুরু করে ইসরায়েল। দুই দেশের এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইরান ও লেবাননে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি হামলার প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে।
সংঘাত শুরুর ৪০ দিন পর, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এরপর থেকে নতুন করে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যদিও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে, তবু তিনটি ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের পরোক্ষ সংলাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের হাজার হাজার কোটি ডলার কীভাবে ছাড় করা হবে, সেটিও অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
একটি ইরানি সূত্রের ভাষ্য, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংঘাতটি এখন এক ধরনের অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েও তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে পরোক্ষ আলোচনার সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতকাল বলেন, ‘যদি আমাদের বোমা দিয়েই আলোচনা করতে হয়, তাহলে আমরা সেটাই করব। আর সে কাজে আমরা বেশ দক্ষ।’