নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর সাংবাদিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ সঞ্জিত সাহা। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রে লেখালেখির মাধ্যমে তিনি পাঠকসমাজে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে তার এই পরিচিতি রাতারাতি গড়ে ওঠেনি। সাংবাদিকতার শুরু থেকেই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন তিনি।
সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিক সঞ্জিত সাহার সুনাম রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক নানা ব্যর্থতার বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ‘দালাল’, ‘চাটুকার’ ও ‘সুবিধাবাদী’ আখ্যা দিয়ে নানা পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এবং সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, একজন সাংবাদিকের পেশাগত ও অনুসন্ধানী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সঞ্জিত সাহার প্রকাশিত আলোচিত প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে— “প্রকৌশলীকে আওয়ামী লীগ নেতাদের মারধর”, “নরসিংদীতে আগুন-ভাঙচুরে বিএনপি সম্মেলন পণ্ড”, “ক্ষমতাসীনদের চাঁদাবাজি”, “লাশের টাকা আত্মসাৎ করলেন চেয়ারম্যান”, “বালুতে সর্বনাশ মেঘনা তীরের” এবং “দলীয় প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করলেন স্বতন্ত্র এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটন” শিরোনামের সংবাদ।
এছাড়া তার বিভিন্ন প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় উঠে এসেছে। ক্ষমতাসীন মহলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সাংবাদিক মহলের অনেকে মনে করেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদপত্রের পাতায় তুলে ধরেছেন সঞ্জিত সাহা। ফলে তার বিরুদ্ধে বর্তমান অপপ্রচারকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছেন।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, একজন সাংবাদিক যদি নিয়মিতভাবে ক্ষমতাসীন দল, জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন, তাহলে তাকে কীভাবে ‘দালাল সাংবাদিক’ বলা যায়? তাদের মতে, প্রকৃত তোষামোদকারী বা সুবিধাভোগীরা সাধারণত ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সঞ্জিত সাহার তোলা কিছু ছবি প্রচার করে সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে সাংবাদিক মহলের ভাষ্য, সংবাদ সংগ্রহ, প্রেস কনফারেন্স, সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকা স্বাভাবিক বিষয়।
তারা আরও জানান, যেসব ছবি নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে রয়েছে। ফলে এগুলো নতুন কোনো তথ্য নয়। বরং অতীতে যাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, তাদের একটি অংশ সংঘবদ্ধভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের মতে, অপপ্রচার সাময়িক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব নয়। তাদের ভাষায়, সত্য প্রকাশই সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই শক্তিকে দুর্বল করার জন্য অপপ্রচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ঘটনা নতুন কিছু নয়।
ইউনি /শাহোরা/