ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে গোপনে রাশিয়ার প্রায় ২০০ সেনাকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। ইউরোপের তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters–এর হাতে আসা গোপন নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ড্রোন ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও চীন শুরু থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেদের নিরপেক্ষ দাবি করে আসছে, তবুও এই তথ্য পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, এর মাধ্যমে চীন পরোক্ষভাবে যুদ্ধে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার সেনাদের চীনের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেক সেনা বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধেও অংশ নিচ্ছেন।
চুক্তির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে চীনের সেনারাও রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ নেবে বলে জানা গেছে। পুরো কার্যক্রম গোপন রাখার জন্য মিডিয়া বা অন্য কোনো দেশের কাছে তথ্য প্রকাশ নিষিদ্ধ ছিল।
রুশ সেনাদের আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি শেখাতে ব্যবহার করা হয়েছে কম্পিউটারভিত্তিক সিমুলেটর। এতে ড্রোন পরিচালনা, শত্রুপক্ষের ড্রোন ধ্বংসে জ্যামার ও ইলেকট্রনিক রাইফেল ব্যবহার, জাল নিক্ষেপ কৌশল, মাইন পুঁতে রাখা এবং মাইন নিষ্ক্রিয় করার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো পক্ষ নেয়নি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার দীর্ঘ যুদ্ধ অভিজ্ঞতার সঙ্গে চীনের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে।