• বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাজার জন্য ইসরায়েলি অস্ত্র কারখানায় হামলা, আদালতে দোষ স্বীকার এমপি শামীম আরা স্বপ্নাকে আড়ম্বরপূর্ণ সংবর্ধনা দিলেন ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান কবিগুরুর জন্মবার্ষিকীতে আসছে কামাল আহমেদের ৩৫তম অ্যালবাম ‘সুদূর নীহারিকা’ ১৯২ আরবান হেলথকেয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করলেনঃ প্রধানমন্ত্রী আবার ও বাড়ল সোনার দাম ১৬ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছাড়িয়েছে ১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুরের সড়কগুলো দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পুশইনের ঘটনা ঘটলে ব‍্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুফানে নিলো ঘরবাড়ি আর পানিয়ে নিলো ধান,কৃষকের হাহাকার

গাজার জন্য ইসরায়েলি অস্ত্র কারখানায় হামলা, আদালতে দোষ স্বীকার

Reporter Name / ৩৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি অস্ত্র কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের চার কর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির আদালত।

মঙ্গলবার দীর্ঘ শুনানি শেষে উলউইচ ক্রাউন কোর্ট লিওনা কামিও (৩০), স্যামুয়েল কর্নার (২৩), ফাতেমা রাজওয়ানি (২১) এবং শার্লট হেডকে (২৯) দোষী ঘোষণা করেন। তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ব্রিস্টলের কাছে অবস্থিত এলবিট সিস্টেমসের একটি কারখানায় প্রবেশ করে ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে স্যামুয়েল কর্নার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ইচ্ছাকৃত গুরুতর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগ থেকে খালাস পান। যদিও ১১-১ ভোটের রায়ে তাকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে জর্ডান ডেভলিন (৩১) ও জো রজার্স (২২) ফৌজদারি ক্ষতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।

শুনানির কয়েক দিন আগে আসামিরা তাদের আইনজীবীদের সরিয়ে দিয়ে নিজেরাই আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারা দাবি করেন, আদালতের এক সিদ্ধান্তের কারণে আইনজীবীরা আর তাদের পক্ষে কাজ করতে পারেননি।

সমাপনী বক্তব্যে আসামিরা জানান, তারা অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই কারখানায় প্রবেশ করেছিলেন।

শার্লট হেড আদালতে বলেন, তিনি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, কারণ তার মতে সেগুলো ছিল “অস্ত্র”। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করতাম, যা করেছি তা করার আইনগত অধিকার আমার ছিল।”

জো রজার্স আদালতে বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত এসব কারখানা ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র তৈরি করে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, “প্রসিকিউশন খুব ভালো করেই জানে, এই কারখানা গাজায় ব্যবহারের জন্য ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে রজার্স বলেন, “আমি এতে অংশ নিতে পেরে গর্বিত।”

আদালতে বলা হয়, ঘটনার দিন আন্দোলনকারীরা একটি প্রিজন ভ্যান ব্যবহার করে কারখানার নিরাপত্তা শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ক্রাউবার ও হাতুড়ি দিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম, কম্পিউটার, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক পণ্যের ক্ষতি করেন।

প্রসিকিউটর ডায়ানা হিয়ার কেসি জানান, অভিযানে এলবিটের তৈরি যুদ্ধ প্রশিক্ষণ সিমুলেটর ও কোয়াডকপ্টার ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আদালতে এসব ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের ছবিও উপস্থাপন করা হয়।

শুনানিতে প্রধান আইনজীবী রাজীব মেনন শার্লট হেডকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি স্বীকার করেন যে কারখানার সম্পত্তির ক্ষতি করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি ও তার সহআসামিরা মনে করেছিলেন তাদের কাজ আইনগতভাবে ন্যায্য ছিল।

এর আগে একই ঘটনায় হওয়া আরেক বিচারে প্রথম জুরি সব আসামিকে গুরুতর ডাকাতির অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। ওই অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারত।

এ ছাড়া জুরিরা রাজওয়ানি, রজার্স ও ডেভলিনকে সহিংস বিশৃঙ্খলার অভিযোগ থেকেও খালাস দেয়। পরে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস হেড, কর্নার ও কামিওর বিরুদ্ধে আনা সহিংস বিশৃঙ্খলার অভিযোগও প্রত্যাহার করে নেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category