• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৯ Time View
Update : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-বিরোধী অর্থনৈতিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ যোগ দিলে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা ও তাদের স্বার্থে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে ইরান।

২২ আগস্ট (শনিবার) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কঠোর সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।

রেজাই আইআরআইবি-কে বলেন, “আমরা সব প্রতিবেশী দেশকে মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার জন্য বলছি। তা না হলে আমরা তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করব।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সর্বশেষ অর্থনৈতিক হুমকির পর তার এই মন্তব্য এলো।

গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, ইরানকে কোনো ধরনের সুবিধা বা সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ বয়ে আনার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

পরের দিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সেই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, “আপনারা হয় আমাদের সঙ্গে আছেন, না হয় আমাদের বিরুদ্ধে।”

শনিবারের সাক্ষাৎকারে রেজাই ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার মাধ্যমে শুরু হবে।

তিনি বলেন, “আমরা প্রথমে আলোচনা করি। তারপর, সুন্দর ভাষার মাধ্যমে তাদের আমেরিকা থেকে আলাদা করার চেষ্টা করি, কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ বিস্তার করতে চাই না।”

যে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিবে, তাদের পুনর্বিবেচনা করার জন্য সময় দেওয়া হবে উল্লেখ তিনি বলেন, “তবে তৃতীয় ধাপে, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”

রেজাই ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প প্রশাসন বাজিমাত করার উদ্দেশ্যে ভাবছে যে, অর্থনৈতিক চাপ ইরানি সমাজকে ভেঙে ফেলবে ও যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করবে।

তিনি বলেন, “তারা আশা করছে যে সম্ভব হলে তারা অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে আমাদের ঐক্য ভেঙে দেবে এবং একদল আন্দোলনকারী তেহরানের রাস্তায় নেমে আসবে- এক অর্থে তারা আমেরিকান এফ-৩৫ বিমানের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করবে।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দেশ দুটির মধ্যে একটি বড় বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে করে তেল ও সারের মতো পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের যে দেশগুলো আগে রপান্তির জন্য এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা বিকল্প বাণিজ্য খোঁজা শুরু করেছে।

তবে রেজাই সতর্ক করে জানান, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিকল্পনায় অংশ, তাহলে ইরান পারস্য উপসাগরের সেই বিকল্প তেল-পরিবহন রুটগুলোতেও আঘাত হানবে।

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার লক্ষ্যবস্তু বাড়ানোর কথা ভাবছে; ট্রাম্পের অভিযানে সমর্থনকারী ইউরোপের মার্কিন মিত্রদের ওপরও তারা আঘাত হানতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category