• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

২৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলতেই সন্তানের স্বীকৃতি দিলেন বাবা

Reporter Name / ২৬ Time View
Update : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে ২৭ বছর পর নিজের ছেলেকে সন্তানের স্বীকৃতি দিলেন এক বাবা। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামের এই ঘটনায় স্বস্তি ফিরে এসেছে সংশ্লিষ্ট দুই পরিবারে।

 

চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর যুবককে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্তানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী সিভিল জজ) সুব্রত দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মধ্যস্থতা সভায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।

 

সভায় আইন সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২১গ ধারার বিধান অনুযায়ী পিতা মুরশেদ ও ছেলে আরিয়ানের (ছদ্মনাম) মধ্যে একটি মধ্যস্থতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের অফিস সহকারী মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম।

 

তিনি জানান, চুক্তির মাধ্যমে মুরশেদ আনুষ্ঠানিকভাবে আরিয়ানকে নিজের পুত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তাকে বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে আগামী শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের সময় স্থানীয় মসজিদে উপস্থিত হয়ে আরিয়ানকে সামাজিকভাবেও নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

 

এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী, পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য আরিয়ানকে দুই লাখ টাকা প্রদান করবেন মুরশেদ। পাশাপাশি ওয়ারিশ সনদ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করবেন তিনি।

 

চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামে আরিয়ানের জন্ম হয়। সে সময় তার বাবা মুরশেদ প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। জন্মের কিছুদিন পরই আরিয়ানের মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে।

 

পরবর্তীতে আরিয়ানের মা অন্যত্র বিয়ে করলে তিনি মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বড় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন বাবার স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত থাকার পর পিতৃত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় ২০২৪ সালে মাকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন আরিয়ান।

 

অভিযোগের পর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে মুরশেদকে নোটিশ পাঠানো হলে তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আরিয়ানকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন না।

 

পরে ২০২৬ সালে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী সিভিল জজ) সুব্রত দাশের নির্দেশনায় দুইজন প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে আরিয়ান, তার মা এবং মুরশেদের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। গত ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে জমা দেয়।

 

প্রতিবেদনে মুরশেদ ও আরিয়ানের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ জৈবিক পিতা-পুত্র সম্পর্কের মিল পাওয়া যায়। এরপরই মুরশেদ আনুষ্ঠানিকভাবে আরিয়ানকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category