• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেলাবোতে প্রথম শ্রেণীর শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টা, সিএনজিসহ অভিযুক্ত আটক চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতে নরসিংদীতে ড্যাবের মানববন্ধন “ইত্যাদি” অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ২০ জন আহত; চুরি যায় শতাধিক মোবাইল ফোন  নরসিংদীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগরে জমকালো আয়োজনে ‘ইত্যাদি’র শুটিং সম্পন্ন প্রবাসে থেকেও মানবতার সেবায় শরিফ বদলে দিচ্ছেন গ্রামের চিত্র তিস্তা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে বিএনপি সরকার : প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত সহযোগী ছিলেন আরেকজন, রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার সময় স্ত্রীকে আটকে রাখেন সোহেল মিরপুরে বস্তি উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন পুলিশ সদস্য হজ ও ওমরা পালনকালে মৃত্যুবরণের ফজিলত ও মর্যাদা

সহযোগী ছিলেন আরেকজন, রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার সময় স্ত্রীকে আটকে রাখেন সোহেল

Reporter Name / ২৪ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

 

রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার সময় স্ত্রীকে আটকে রাখেন সোহেল, সহযোগী ছিলেন আরেকজন
হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তার ও প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত সোহেল রানা। তার সঙ্গে আরো একজন ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানান, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময়ে ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ টুকরা করে গুম করার প্রস্তুতির সময় রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার আরেক সঙ্গী। স্বপ্নাকে তাৎক্ষণিক আটক করেন স্থানীয়রা।

সোহেল রানাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ-হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহেল ও স্বপ্নাকে দুটি আদালতে হাজির করে আলাদা আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন। সোহেলের জবানবন্দি রেকর্ড এবং স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেলা সোয়া ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় সোহেলকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাকে আর রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হয়নি।

সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদকারী তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না নিজ বাসার একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন।

সোহেল বাইরে থেকে ওই কক্ষের সিটকিনি লাগিয়ে দেন। এরপর তিনি রামিসাকে ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে জোর করে ধরে ভেতরে নিয়ে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরেক ব্যক্তি। রামিসা চিৎকার করলে তার মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাকে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হয়।’
পুলিশ কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান জানান, রামিসাকে হত্যার পর দেহ টুকরো করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা শুরু হয়। এ সময় রামিসার পরিবার ও স্থানীরা বাইরে থেকে বাসার দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে। তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সোহেল ও তার সঙ্গী জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসার বাইরে হৈ হুল্লোরের শব্দে সোহেলের স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। স্বামী তখন সিটকিনি খুলে দেওয়ায় কক্ষের বাইরে এসে তিনি রামিসার গলা কাটা দেহ দেখতে পান। এ সময় স্থানীয়রা বাসার দরজায় বারবার আঘাত করলেও স্বপ্না তাদের ঢুকতে না দিয়ে স্বামী ও তার সঙ্গীকে পালাতে সাহায্য করেন।’

সোহেলের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির নাম ‘তদন্তের স্বার্থে’ এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান। তাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী। রামিসা হত্যা মামলায় ওই ব্যক্তিকে ‘অজ্ঞাতনামা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে রাখা ছিল মাথা।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় বুধবার একটি মামলা করার পর তাতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category