• রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশের খুঁটি স্থাপন নিয়ে পাটগ্রাম সীমান্তে উত্তেজনা: বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতা দখলে নিলেন জামায়াত নেতার খেয়াঘাট গুলিস্তানে দুই ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতাহাতি; সাময়িক বরখাস্ত ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকারের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যাকারীর ফাঁসি জনসম্মুখে কার্যকর করতে হবে : লেবার পার্টি ঘোড়াঘাটে পুকুরের পানিতে বেলুন তুলতে গিয়ে প্রাণ হারায় এক শিশু শালিস দরবারের নামে ধর্ষণের ঘটনা রফাদফার চেষ্টা, জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তরুণী কান উৎসবে যোগ দিতে মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে রওনা ঐশ্বরিয়ার ‘পটাকা’র পর ঈদে নতুন গান নিয়ে ফিরছেন নুসরাত ফারিয়া

চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতা দখলে নিলেন জামায়াত নেতার খেয়াঘাট

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপাসিয়া খেয়াঘাট জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মো. জামাল উদ্দিন ওই ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক। তিনি ভাটিকাপাসিয়া গ্রামের মো. ওসমান গনীর ছেলে।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খেয়াঘাটের ইজারাদার ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হারুন-অর-রশিদ।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “শুক্রবার রাতে এজাহারটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘাট দখলের আগে থেকেই জামাল উদ্দিন ইজারাদার হারুন-অর-রশিদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘাট দখলের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে লাঠি, ছোরা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক ঘাটে প্রবেশ করে। এ সময় ইজারাদারের নৌকায় কর্মরত মাঝি মো. কবির উদ্দিনকে নৌকা থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জামাল উদ্দিন লোহার রড দিয়ে কবির উদ্দিনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করলে তার হাড় ভেঙে যায়। পরে আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হামলার পরে অভিযুক্তরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়া পর্যন্ত ঘাট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে ইজারাদার ও তার লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রজবখালী লটঘাট, মাটিয়াল ফারিঘাট, চণ্ডীপুর, লালচামার ফারি, কাপাসিয়া-ভাটিকাপাসিয়া, উজান বুড়াইল-ভাটি বুড়াইল ও পোড়ারচর ঘাট নিয়ে গঠিত প্যাকেজ নম্বর-৩-এর আওতায় খেয়াঘাটগুলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে লালচামার গ্রামের রিয়াজুল হকের ছেলে মো. হারুন-অর-রশিদ ইজারা পান। জেলা পরিষদের সঙ্গে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই থেকে হারুন-অর-রশিদের লোকজন খেয়াঘাটটি পরিচালনা করে আসছেন।

ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩১ বঙ্গাব্দে খেয়াঘাটে যাত্রীপ্রতি ৪০ টাকা টোল আদায় করা হতো। পরবর্তী মেয়াদে খাস কালেকশনের সময় স্থানীয়দের সম্মতিতে তা কমিয়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই সময়ের কালেকশন কার্যক্রমে জামাল উদ্দিনও অংশীদার ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি মেয়াদেও ৩০ টাকা হারে টোল আদায় করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে, সম্প্রতি অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে জামাল উদ্দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এবং ঘাট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

এ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, আগে যে হারে তিনি নিজেও টোল আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, একই হারে অন্য কেউ টোল আদায় করলে এখন আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি কোথায়?

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “কাউকে আমি মারধর করিনি, কারো কাছে টাকাও দাবি করিনি। তবে, স্থানীয়দের দাবির মুখে খেয়াঘাটটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। বর্তমানে ৩০ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে খুশি সবাই।”

তিনি আরো বলেন, “এর আগে যখন ঘাটের ইজারা ব্যবস্থায় যুক্ত ছিলাম, তখনো ৩০ টাকা টোল আদায় করা হতো, এটা ঠিক। কিন্তু টোল কমানোর আন্দোলনটা আমি সেই সময় থেকেই করে আসছি। তার অনেক প্রমাণ আছে।”

ইজারাদার জামায়াত নেতা মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, “বৈধ প্রক্রিয়ায় জেলা পরিষদ থেকে ঘাট ইজারা নিয়েছি। ১৪৩২ বঙ্গাব্দে খাস কালেকশনের সময় সবার সম্মতিতে ৩০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন জামাল উদ্দিন নিজেও সেই কার্যক্রমে ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারো ৩০ টাকা টোল আদায় করা হচ্ছিল। অথচ এখন জোরপূর্বক ঘাট দখল করে আমার মাঝিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ বলেন, “হাট-বাজার ও খেয়াঘাট সরকারি সম্পত্তি। সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ইজারা প্রদান করে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জোরপূর্বক দখল নেওয়ার এখতিয়ার নেই।”

তিনি আরো বলেন, “বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে খেয়াঘাট দখলের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, “জেলা পরিষদ মালিকানাধীন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর প্যাকেজভুক্ত খেয়াঘাটগুলো বৈধ প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই প্যাকেজের ঘাটগুলো সর্বোচ্চ দরদাতা হারুন-অর-রশিদ ইজারা পেয়েছেন। তাই ওই ঘাট অন্য কেউ দখল করার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি আরো বলেন, “১০ টাকায় পারাপার কেন, ইজারাদার ব্যতীত অন্য যে কেউ ফ্রিতেও পারাপার করাতে চাইলে সেটিও নিয়মবহির্ভূত হবে। জেলা পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি খেয়াঘাট পরিচালনা করতে পারে না।”

ইউনি/শাহোরা/

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category