• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কার স্বার্থে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু? দুই পাশে নেই কোন সংযোগ সড়ক

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

নরসিংদী প্রতিনিধি

* দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক
* লাখো মানুষ দুই পাড়ে ভরসা নৌকা
* ৩ বছর আগে শেষ নির্মাণ কাজ

নরসিংদীর মনোহরদী ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি সেতুর। প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত হয় সেতু। আর এই সেতু নির্মানে ব্যয় হয ১০ কোটি টাকা। তিন বছর আগেই শেষ হয়েছে সেতুর নির্মাণকাজ। মানে তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনো হয়নি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক। ফলে নিম্নের তিন বছরও চালু হয়নি সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতুটি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের লাখো মানুষ।

সেতু নির্মাণের পর বিগত তিন বছর যাবত চোখ সড়ক না থাকায় জনগণে প্রশ্ন উঠে ‘কার স্বার্থে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু?’

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২২ সালে মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর ও কাপাসিয়া উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করে। তবে সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেতুটি এখন পর্যন্ত কোনো কাজে আসছে না জনসাধারণের।

বর্তমানে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে রশি ধরে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বর্ষা মৌসুমে।

সব সময় মাঝি পাওয়া যায় না। রশি ধরে নৌকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী?

কাপাসিয়ার বাগুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়ালের মন্তব্য, ‘সেতুর কাজ প্রায় তিন বছর আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু দুই পাশের রাস্তা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও সেতুটি এখনো কোনো কাজে আসছে না।’

এই সেতুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন সিংগুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাজেদুল হক।

তার মন্তব্য, ‘এই সেতুটি মনোহরদী ও কাপাসিয়ার মানুষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের স্কুলে ওপারের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি চালুর দাবি জানালেন সাজেদুল।

এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে সড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনাও এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।

সেতু নির্মাণের তিন বছর পার হওয়ার পরও এটি কাজে না আসায় ক্ষোভ ঝাড়লেন মনোহরদী উপজেলার আশাদনগর গ্রামের মো. জালাল উদ্দিন।
‘বয়স হয়ে গেছে, সব সময় মাঝি পাওয়া যায় না। রশি ধরে নৌকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী?’বলেই প্রশ্ন ছুড়ে দিরেন জালাল উদ্দিন নামে ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ।

কেবল বৃদ্ধ জালাল উদ্দিনেরই নয়, মনোহরদী ও কাপাসিয়ার দুই পাড়ের বাসিন্দাদের। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

এলজিআরডি বিভাগের মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা এব্যাপারে বলেন,নানা জটিলতার কারণে তিন বছরেও সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি

তিনি বলেন,‘সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে সড়ক নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনাও এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করা হবে সেতুটি’।

শিপ্রশাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category