পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে বিদ্যুতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় রেখে শহর ও গ্রামে সমানভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসগুলোতেও বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে কোন কর্মকর্তা কোন এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন, তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
গত ২৩ মে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ছুটিতে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় শহরে বিদ্যুতের চাপ কিছুটা কমবে। তবে গ্রামীণ এলাকায় চাহিদা বাড়তে পারে বলে সেখানে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সারা দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব সমিতির জেনারেল ম্যানেজারদের যোগাযোগ নম্বর সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেও সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এক কর্মকর্তা জানান, কোনো এলাকায় প্রতিদিন নিয়মিত লোডশেডিং গ্রহণযোগ্য হবে না। কোথাও সঞ্চালন লাইনে সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বা আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগাম জানাতে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহসংক্রান্ত তথ্য আরও নির্ভুল ও সমন্বিত করতে একটি ইউনিফাইড সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগও নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আগামী জুনের মধ্যেই সফটওয়্যারটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।