বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে রাজধানী ঢাকার অবস্থা আরও খারাপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, “তারা এই ১৮ মাসে ঢাকা শহরকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।”
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব–এ অনুষ্ঠিত ‘সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এর প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, পরিবেশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে তারা পরিবেশের উন্নয়ন করতে পারেননি, বরং পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে রাজধানীতে যানজট, হকার সংকট, বায়ুদূষণ এবং নাগরিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শুধু বক্তব্য নয়, মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের জন্য নাগরিকদের অসচেতনতাকেও দায়ী করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, মানুষ সচেতন হলে দুই বছরের মধ্যেই ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব, অন্যথায় ২৫ বছরেও পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন ১৫ দিনের বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। কোথায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে বা জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বর্ষাকালে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে একই রাস্তা বারবার কাটতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ধানমন্ডিতে একটি পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে, যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কেবল লাইন মাটির নিচে নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার খাল ও জলপথ দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে জলাবদ্ধতা ও যানজট বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, নদীপথ ও রেলপথ উন্নত করা গেলে সড়কের ওপর চাপ এবং পরিবেশ দূষণ—দুটোই কমানো সম্ভব।