প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন বিএনপি সরকারও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দুটি ফিশ পাস।
এই ব্যারেজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সংরক্ষিত পানি বণ্টনের জন্য তিনটি অফটেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে পানিসংকট তৈরি হয়, তা মোকাবিলায় দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীগুলো হলো হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী।
শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এতে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জিত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।সরকারী সংবাদ