• রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লায় পুকুরে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা মা পদক ২০২৬’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন ববিতা প্রেক্ষাগৃহ মাতিয়ে এবার ওটিটিতে আসছে ‘ধুরন্ধর : দ্য রিভেঞ্জ’ যুদ্ধের মধ্যেই শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদত্যাগ, দিলেন বিস্ফোরক তথ্য স্বামী-স্ত্রী’র বিরোধ; কমলগঞ্জে শিশুকে অপহরণ স্টাইলে তুলে নেয়ার চেষ্টা মায়ের বছরে ৮০০ কোটি ডলারের সম্ভাবনা হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাক খাত জনগণ গুম-অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত রাষ্ট্র চায় : প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে ক্রয়কৃত জমির দোকান ঘরের সামনে সরকারি জায়গায় অবৈধ ঘেরা: ভুক্তভোগীর অভিযোগে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু

বছরে ৮০০ কোটি ডলারের সম্ভাবনা হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাক খাত

Reporter Name / ৪০ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

নীতিগত সহায়তার ঘাটতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি সংস্কার ও কার্যকর নীতি গ্রহণ না করলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান চাপের মুখে পড়তে পারে।

তাদের মতে, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) খাতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুযোগের পরিমাণ বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন বা ৮০০ কোটি ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বাজারগুলোর নতুন নীতিমালার কারণে এখন পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং পরিবেশবান্ধব সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত “বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে সার্কুলার রূপান্তর ত্বরান্বিত করা: সুইচটুসিই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা” শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও BGMEA

বিজিএমইএর পরিচালক ও কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ বলেন, বৈশ্বিক আইন ও নীতির পরিবর্তনের ফলে পোশাক শিল্প এখন টেকসই উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিন ডিল ও ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট (ডিপিপি) নীতির কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং চক্রাকার সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে প্রস্তুতকারকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে, নতুন কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মোস্তাফিজ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ টন টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়। এর বড় অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে পুনঃব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাত করা হলেও এখনো এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসেনি। এ খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা গেলে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে এবং আরও সংগঠিত শিল্পভিত্তি গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শতভাগ তুলাভিত্তিক বর্জ্য যান্ত্রিকভাবে পুনর্ব্যবহার সম্ভব হলেও রাসায়নিক পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা এখনও সীমিত। বিশেষ করে মিশ্র কাপড় ও মানবসৃষ্ট তন্তু (এমএমএফ) পুনর্ব্যবহারে বড় ঘাটতি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কাঁচামালের চাহিদা আরও বাড়বে এবং সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়বে। তাই প্রাকৃতিক তন্তুর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্পের দিকে যেতে হবে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদিয়া আম্মৃত খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের সব বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা গেলে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশ তুলাভিত্তিক পোশাক বর্জ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করতে সক্ষম হলেও এর বড় অংশ ভারত ও পাকিস্তানে রপ্তানি হয়ে পরে পুনর্ব্যবহৃত সুতা হিসেবে দেশে ফিরে আসে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১৭টি কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্প চালু রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পথে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে সতর্কভাবে আলোচনা করছে। তবে এলডিসি উত্তরণ যেকোনো সময়েই হোক না কেন, বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, চক্রাকার অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

মাইকেল মিলার আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধি কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে চক্রাকার অর্থনীতি, যার লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন। ইউরোপে প্রতিবছর ৫০ লাখ টনের বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়, যেখানে বাংলাদেশে এ পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টন।

তিনি বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার এবং তৈরি পোশাক খাত দেশের জিডিপিতে প্রায় ১১ শতাংশ অবদান রাখার পাশাপাশি প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

এ ছাড়া তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ প্রকল্পে H&MBestseller-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ট্রেসেবিলিটি নিয়ে পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ইউনিডো ও চ্যাথাম হাউস নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে চক্রাকার বিনিয়োগ বাড়াতে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক BRAC Bank-এর সঙ্গে ৬ কোটি ইউরোর ঋণচুক্তি করেছে।

সূত্র : The Financial Express


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category