পানিসম্পদ মন্ত্রী মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, যারা স্লোগান দিচ্ছেন গ্যাস নাই বিদ্যুৎ নাই- এই কথা বলে লংমার্চ করছেন, এই লংমার্চটা এখন কি হিসেবে জায়েজ ? উনারা লংমার্চ করতেছেন। যেদিন আমরা শপথ নিয়েছি, সেইদিন তারা উপস্থিত ছিলেন না। প্রথম দিন থেকে এই ৬ মাস পর্যন্ত এমন কোন দিন নেই যে উনারা প্রতিবাদ বা আন্দোলন করার মতো হুংকার না দিয়েছেন, বা প্রোগ্রাম না করেছেন। তবে সংসদে কিছু সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, কিন্তু বাহির হলে চেহারাটা ওই স্বাধীনতার সময়, ৭১ এর সময়ের রুপ ধারণ করেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত র্যালির শুরুতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির ব্যানারে সদর উপজেলা ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশগ্রহণ করেন।
এ্যানি চৌধুরী বলেন, ৬ মাসেই সব কাজ করে ফেলবেন, এটা কি আসলেই সম্ভব? একটা ধ্বংস স্তুপের মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। তুষের আগুনে মধ্যে এখনো জ্বলছি। যদি পারতাম তাহলে ৬ মাসের মধ্যেই ঘরে ঘরে যে লোডশেডিংটা হচ্ছে, এটা না করে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারতাম। কিন্তু আসলে সম্ভব নয়। এখন গ্যাস নাই, গ্যাসটা এনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়। আমরা জানি সবার কষ্ট হচ্ছে। ৬ মাসের মধ্যে এ কাজটা সম্পন্ন করতে পারবো, এটা আসলে ইচ্ছে করলেই সম্ভব নয়। ১২ ফেব্রুয়ারি আগে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই কাজে হাত দিতেন, হয়তো বা আমাদের জন্য সহজ হতো। আমি ৬ মাসে পারিনি, আমাদেরকে আরো সময় দিতে হবে, এটা হল বাস্তবতা, এটা লুকানোর কিছু নেই।
তিনি আরো বলেন , ‘সংসদে আমীর সাহেব বলেছেন, আমি মাননীয় প্রধামন্ত্রীর পক্ষ হয়ে বিচার চাচ্ছি, কেন তার পরিবারকে গালিগালাজ করা হয়েছে। এটাও বলেছেন, কোন ইতররা এসমস্ত অপকর্ম করেছে, তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছে’। একদিকে পাটওয়ারী সাহেবের বক্তব্য, সে এতোদিন তারেক জিয়া, জিয়া পরিবারকে টার্গেট করে বলেছে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সবাইকে তুই তাঙ্গারি করে অশ্লীল ভাষায়, অশালীন, এমন কিছু বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। কই আমাদের আমীর সাহেব অথবা যারা আমীর সাহেবের সঙ্গে এখন বিরোধী দলের ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, একটিবারের মতো তাকে কি বারণ করেছিলেন? কারণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার তারা বোঝেন না। রাজনীতির মাঠে যারা ফ্যাসিবাদের মতো আচরণ করতে চান, তাদের মধ্যেই এ ধরণের বক্তব্য।
তিনি আরও বলেন, একটা ছেলে এমন কিছু গালিগালাজ করেছে। নাম মুখে নিতে চাই না। আমীর সাহেব বললেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। সংসদে বললেন কি, আর আজকে লংমার্চে বললেন ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। লংমার্চে গিয়ে ছাত্রদল যুবদলের বিরুদ্ধে কথা বলে। স্লোগান দেয় হৈ হৈ রৈ রৈ- এরা (ছাত্রদল-যুবদল) গেলি কই। এটা হলো পাটওয়ারী সাহেবদের বক্তব্য। এটা হল আমাদের আমীর সাহেবের বক্তব্য। আমীর সাহেবের নেতৃত্বেই এসমস্ত অশালীন, অশ্লীল বক্তব্যগুলো, রাজনীতিতে যেগুলো যায় না, সমাজে যেগুলো যায় না, বিবেক বর্জিত বক্তব্যগুলো তারা স্টাবলিশ করছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহবায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ এমরান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন ও সদর (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন প্রমুখ।