ইয়ানূর রহমান, যশোর থেকে ::
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দীর্ঘ ৬ বছর পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছিলেন ছেলে আরিফুল ইসলাম। তাই বিমানবন্দরে আরিফুলকে রিসিভ করতে মা, ভাই, বোন, ভাগনা ভাগনি সকলে মিলে গিয়েছিলেন। পরিবারের সবার চোখে ছিল অপেক্ষা, বুকভরা আনন্দ আর স্বপ্ন। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই মুহূর্তে পরিণত হলো মৃত্যুর মিছিলে।
ঢাকার বিমানবন্দর থেকে প্রবাসফেরত ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যশোরের ঝিকরগাছার একই পরিবারের চার সদস্য। তাদের সঙ্গে নিহত হয়েছেন প্রাইভেটকারের চালকও। সোমবার দিবাগত ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলার মালীগ্রাম ফ্লাইওভার এলাকায় সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের খোসালনগর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫০), বড় ছেলে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আরিফুল ইসলাম (২৮), ছোট ছেলে রাকিবুল ইসলাম (১৫) ও মেয়ে আয়েশা বেগম (৩৫)। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রাইভেটকার চালক মনিরামপুর উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের জাহিদ শেখ (২৮)। আহত হয়েছেন আরও দুই শিশু, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছিলেন আরিফুল ইসলাম। তাকে বরণ করে আনতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। বিমানবন্দর থেকে যশোরে ফেরার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালীগ্রাম ফ্লাইওভার এলাকায় পৌঁছালে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাকিবুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
যশোরের বাঁকড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাস্টার আনিছুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ এখনও গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়নি। তবে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই খোসালনগর গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর বেদনায় নির্বাক হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা বলছেন, যে পরিবারটি প্রবাসফেরত ছেলেকে ঘিরে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেই পরিবারের চার সদস্যের একসঙ্গে চলে যাওয়া পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। খোসালনগরের প্রতিটি ঘরে এখন শোক, কান্না আর দীর্ঘশ্বাস।
শিবচর হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।