নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন নিজেই ‘অসুস্থ’ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক না থাকা, অব্যবস্থাপনা ও চরম অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ভবনে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির ভবনটি বছরের পর বছর ব্যবহার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও চুন-সুরকি খসে পড়ছে, আবার কোথাও দেয়ালের ইট বের হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস বলছে চর মধূয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, আয়া, নিরাপত্তা প্রহরী এই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে খালি আছে। বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শুকতারাকে সপ্তাহে একদিন প্রতি শনিবার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, পরিত্যক্ত অবস্থার সুযোগ নিয়ে ভবনের জানালার গ্রিল খুলে নিয়ে গেছে স্থানীয় কিছু বখাটে। শুধু তাই নয়, ভগ্নপ্রায় দেয়াল থেকেও ইট খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ভবনটির অবশিষ্ট কাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত না থাকায় সেবাগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় এডভোকেট খায়রুল আলম ফকির নামে এক ব্যক্তি বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও কোনো কাজে আসে না। জরুরি চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়ে।”
ফারুক সিকদার নামে আরেকজন বলেন, “যদি এই কেন্দ্রটি চালু থাকত, তাহলে গরিব মানুষ অনেক উপকৃত হতো। এখন এটি শুধু ভাঙা ভবন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার করে চিকিৎসক নিয়োগ ও সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
তাদের আশা, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে চরমধুয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ আবারও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবে।
রায়পুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঝিনুক আক্তার বলেন এই কেন্দ্রটির কয়েকটি পথ শূন্য থাকায় বিভাগীয়ভাবে আবেদন করা হয়েছে আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে এই সংকট কেটে যাবে।
ইউনি/শাহোরা/
Reporter Name 




















