Dhaka 7:25 am, Saturday, 18 April 2026
শিরোনাম :
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধরাশায়ী বাংলাদেশ একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ-মৃত্যু! উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান, নমনীয় বার্তা ট্রাম্পের আকস্মিক বন্যা-শিলাবৃষ্টি; বানিয়াচংয়ের হাওরে ফসল নিয়ে শঙ্কা বিপুল জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে আসছে ৪ ট্যাংকার, বাড়ছে স্বস্তি মেসি-ক্রিস্টিয়ানো নয়, ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোকেই সেরা মানেন অলিভার কান রোমান্সে ভরপুর ‘রকস্টার’—শাকিব-সাবিলার নতুন পোস্টার প্রকাশ বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই নরসিংদী পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে পেল ৫ টি ড্রাম ট্রাক নরসিংদী পলিটেকনিকের ৩ রোভারের ৫০০ কি.মি দুঃসাহসিক অভিযান

একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ-মৃত্যু! উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, “শিগগিরই এ রহস্যের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যেতে পারে।”

লাইভ নাও ফক্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন বিজ্ঞানী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে অস্পষ্ট ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে।

এই ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করি এটি কাকতালীয়, তবে আমরা আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই জানতে পারব। আমি এ বিষয়েই একটি বৈঠক করে এসেছি।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের মধ্যে কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন এবং আমরা দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, বিজ্ঞানীদের এই রহস্যজনক ঘটনার বিষয়ে খুব শিগগিরই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ বা মৃত ব্যক্তিরা মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি ও ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট সংগঠিত যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “আমি এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলিনি, তবে শিগগিরই জানার চেষ্টা করব। যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে সরকার অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।”

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, “প্রতিটি ঘটনাই রহস্যজনক এবং আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে এগুলো কোনো বড় ধরনের সমন্বিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ দেয়—এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।”

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, নিখোঁজ অনেক বিজ্ঞানী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে গিয়েছিলেন। আবার কয়েকজন বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়েছে অস্বাভাবিক বা সহিংস পরিস্থিতিতে।

লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন ঘটনা ঘিরে গুপ্তচরবৃত্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অন্য কোনো হুমকির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার সতর্ক করে বলেছেন, “গোপন বা সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা টার্গেট হতে পারেন। গুপ্তচরবৃত্তি বা অপহরণের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

ইউনি /সাভূ/

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধরাশায়ী বাংলাদেশ

একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ-মৃত্যু! উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : 02:46:04 pm, Friday, 17 April 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, “শিগগিরই এ রহস্যের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যেতে পারে।”

লাইভ নাও ফক্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন বিজ্ঞানী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে অস্পষ্ট ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে।

এই ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করি এটি কাকতালীয়, তবে আমরা আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই জানতে পারব। আমি এ বিষয়েই একটি বৈঠক করে এসেছি।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের মধ্যে কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন এবং আমরা দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, বিজ্ঞানীদের এই রহস্যজনক ঘটনার বিষয়ে খুব শিগগিরই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ বা মৃত ব্যক্তিরা মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি ও ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট সংগঠিত যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “আমি এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলিনি, তবে শিগগিরই জানার চেষ্টা করব। যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে সরকার অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।”

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, “প্রতিটি ঘটনাই রহস্যজনক এবং আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে এগুলো কোনো বড় ধরনের সমন্বিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ দেয়—এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।”

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, নিখোঁজ অনেক বিজ্ঞানী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে গিয়েছিলেন। আবার কয়েকজন বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়েছে অস্বাভাবিক বা সহিংস পরিস্থিতিতে।

লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন ঘটনা ঘিরে গুপ্তচরবৃত্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অন্য কোনো হুমকির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার সতর্ক করে বলেছেন, “গোপন বা সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা টার্গেট হতে পারেন। গুপ্তচরবৃত্তি বা অপহরণের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

ইউনি /সাভূ/