চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী চারটি ট্যাংকার (জাহাজ) আসছে। এর মধ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি এবং আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল) আরও একটি ট্যাংকার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব ট্যাংকারে করে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল আসছে, যা দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন।
নতুন চারটি ট্যাংকারের ডিজেল খালাস হলে মোট মজুদ প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে পৌঁছাবে। এতে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে।
চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যেই সব ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে।
চলতি মাসে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই আমদানির ফলে তা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন।
এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এছাড়া বছরে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন ডিজেল পাওয়া যায় অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে।
জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল বহুমুখী খাতে ব্যবহৃত হয়। সড়ক পরিবহনের বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যানসহ অধিকাংশ পণ্যবাহী যানবাহন ডিজেলচালিত। পাশাপাশি কৃষিতে সেচযন্ত্র, নদীপথে নৌযান এবং অনেক শিল্পকারখানার জেনারেটর চালাতেও ডিজেল ব্যবহার হয়।
দেশে ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ যায় কৃষি খাতে। বিদ্যুৎঘাটতির সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ—সবখানেই ডিজেলের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক।
Reporter Name 





















