Dhaka 7:33 am, Saturday, 18 April 2026
শিরোনাম :
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধরাশায়ী বাংলাদেশ একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ-মৃত্যু! উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান, নমনীয় বার্তা ট্রাম্পের আকস্মিক বন্যা-শিলাবৃষ্টি; বানিয়াচংয়ের হাওরে ফসল নিয়ে শঙ্কা বিপুল জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে আসছে ৪ ট্যাংকার, বাড়ছে স্বস্তি মেসি-ক্রিস্টিয়ানো নয়, ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোকেই সেরা মানেন অলিভার কান রোমান্সে ভরপুর ‘রকস্টার’—শাকিব-সাবিলার নতুন পোস্টার প্রকাশ বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই নরসিংদী পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে পেল ৫ টি ড্রাম ট্রাক নরসিংদী পলিটেকনিকের ৩ রোভারের ৫০০ কি.মি দুঃসাহসিক অভিযান

আকস্মিক বন্যা-শিলাবৃষ্টি; বানিয়াচংয়ের হাওরে ফসল নিয়ে শঙ্কা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

তপ্ত রোদে পুড়ে আর হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফলানো বানিয়াচংয়ের বিস্তৃত মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। তবে মাঠের ধান দেখে কৃষকের মুখে যে হাসি থাকার কথা ছিল, তার বদলে ভর করেছে গভীর দুঃচিন্তা ও শঙ্কার কালো মেঘ। আবহাওয়া দপ্তরের কালবৈশাখীর পূর্বাভাস এবং ধান কাটা নিয়ে আশঙ্কায় এখন বিনিদ্র রাত কাটছে হাজারো কৃষকের।

গত কয়েকদিন ধরে আকাশে মেঘের আনাগোনা আর গুমোট আবহাওয়া, শিলা বৃষ্টি কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বানিয়াচংয়ের হাওর এলাকার কৃষকদের বড় ভয় ‘আকস্মিক বন্যা’ ও ‘শিলাবৃষ্টি’। ধান কাটার এই শেষ মুহূর্তে যদি ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হয়, তবে সারা বছরের পরিশ্রম নিমিষেই ধুলোয় মিশে যাবে। এসবের কারণে ধান দ্রুত ঘরে তোলাও অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর সার, বীজ, তেল এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ উৎপাদন খরচ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু সে তুলনায় ধানের পাইকারি বাজারমূল্য নিয়ে তারা হতাশ। একজন কৃষক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “এক মণ ধান বেচে এক কেজি তেলের দামও হয় না। এভাবে চললে আমরা সামনের বার আর জমি চাষ করতে পারবো না।”

ধান কাটার এই মৌসুমে বানিয়াচংয়ের হাওরে এখন অনেকটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে। তারপরও সাধারণ কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়া যেন সহজ ও স্বচ্ছ হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে প্রকৃত কৃষকরা কখনোই লাভের মুখ দেখবে না।

হাওরবাসীর সারা বছরের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই ধান। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যে কৃষক আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়, আজ তারা নিজেরাই অসিÍত্ব সংকটে। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা আর বাজারের অস্থিতিশীলতা থেকে কৃষকদের বাঁচাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও সঠিক মনিটরিং এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি দ্রুত ধান কেটে ফেলার জন্য। ইতোমধ্যে হাওরে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস থাকায় আমরা মাঠে কম্বাইন হারভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) সংখ্যা বাড়িয়েছি যাতে দ্রুত ধান ঘরে তোলা যায়। এছাড়া সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হলে কৃষকরা ধানের সঠিক দাম পাবেন বলে আমরা আশা করছি।

ইউনি/শাহোরা/

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধরাশায়ী বাংলাদেশ

আকস্মিক বন্যা-শিলাবৃষ্টি; বানিয়াচংয়ের হাওরে ফসল নিয়ে শঙ্কা

Update Time : 02:00:37 pm, Friday, 17 April 2026

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

তপ্ত রোদে পুড়ে আর হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফলানো বানিয়াচংয়ের বিস্তৃত মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। তবে মাঠের ধান দেখে কৃষকের মুখে যে হাসি থাকার কথা ছিল, তার বদলে ভর করেছে গভীর দুঃচিন্তা ও শঙ্কার কালো মেঘ। আবহাওয়া দপ্তরের কালবৈশাখীর পূর্বাভাস এবং ধান কাটা নিয়ে আশঙ্কায় এখন বিনিদ্র রাত কাটছে হাজারো কৃষকের।

গত কয়েকদিন ধরে আকাশে মেঘের আনাগোনা আর গুমোট আবহাওয়া, শিলা বৃষ্টি কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বানিয়াচংয়ের হাওর এলাকার কৃষকদের বড় ভয় ‘আকস্মিক বন্যা’ ও ‘শিলাবৃষ্টি’। ধান কাটার এই শেষ মুহূর্তে যদি ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হয়, তবে সারা বছরের পরিশ্রম নিমিষেই ধুলোয় মিশে যাবে। এসবের কারণে ধান দ্রুত ঘরে তোলাও অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর সার, বীজ, তেল এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ উৎপাদন খরচ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু সে তুলনায় ধানের পাইকারি বাজারমূল্য নিয়ে তারা হতাশ। একজন কৃষক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “এক মণ ধান বেচে এক কেজি তেলের দামও হয় না। এভাবে চললে আমরা সামনের বার আর জমি চাষ করতে পারবো না।”

ধান কাটার এই মৌসুমে বানিয়াচংয়ের হাওরে এখন অনেকটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে। তারপরও সাধারণ কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়া যেন সহজ ও স্বচ্ছ হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে প্রকৃত কৃষকরা কখনোই লাভের মুখ দেখবে না।

হাওরবাসীর সারা বছরের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই ধান। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যে কৃষক আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়, আজ তারা নিজেরাই অসিÍত্ব সংকটে। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা আর বাজারের অস্থিতিশীলতা থেকে কৃষকদের বাঁচাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও সঠিক মনিটরিং এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি দ্রুত ধান কেটে ফেলার জন্য। ইতোমধ্যে হাওরে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস থাকায় আমরা মাঠে কম্বাইন হারভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) সংখ্যা বাড়িয়েছি যাতে দ্রুত ধান ঘরে তোলা যায়। এছাড়া সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হলে কৃষকরা ধানের সঠিক দাম পাবেন বলে আমরা আশা করছি।

ইউনি/শাহোরা/