• শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
যুদ্ধে সৃষ্ট অস্থিরতা মোকাবেলায়

বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিবে বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২২ Time View
Update : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতে সংগঠিত অস্থিরতা মোকাবেলায় বাংলাদেশের জন্য ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক জানায়, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সারের সরবরাহ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা বাড়াতে এই অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি (ইএসএফএস) প্রকল্পে। এর আওতায় চলতি বছরের আমন এবং ২০২৬-২৭ মৌসুমের বোরো চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সংস্থাটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জঁ পেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে খাদ্য, সার ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপরও চাপ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। এই প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনে সহায়তা মিলবে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান উৎপাদন হয় আমন ও বোরো মৌসুমে। সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স কর্মসূচির আওতায় আরও ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, বিদ্যুৎ ও পানিসহ জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতেও এ অর্থ ব্যয় করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে সহায়তা মিলবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category