Dhaka 6:22 pm, Saturday, 18 April 2026
শিরোনাম :
ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ১৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার, আটক ৪ মার্কিন অবরোধ না তুললে হরমুজ আবার বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের অস্ট্রেলিয়া–জাপানের ৭ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ চুক্তি: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধরাশায়ী বাংলাদেশ একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ-মৃত্যু! উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান, নমনীয় বার্তা ট্রাম্পের আকস্মিক বন্যা-শিলাবৃষ্টি; বানিয়াচংয়ের হাওরে ফসল নিয়ে শঙ্কা বিপুল জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে আসছে ৪ ট্যাংকার, বাড়ছে স্বস্তি মেসি-ক্রিস্টিয়ানো নয়, ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোকেই সেরা মানেন অলিভার কান

অস্ট্রেলিয়া–জাপানের ৭ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ চুক্তি: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ

আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াজাপান প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। ২০১৪ সালে সামরিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর এটিকে জাপানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এতে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে নতুন নিরাপত্তা জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে চীন-এর ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, জাপানের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীকে তিনটি আধুনিক মোগামি-শ্রেণির বহুমুখী ফ্রিগেট সরবরাহ করবে। জাপানে নির্মিত এই জাহাজগুলো ২০২৯ সাল থেকে হস্তান্তর শুরু হবে।

এর পাশাপাশি আরও আটটি ফ্রিগেট অস্ট্রেলিয়ার ভেতরেই নির্মাণ করা হবে। প্রথম তিনটি জাহাজ জাপানে তৈরি হলেও পরবর্তীতে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ-এর কাছে হেন্ডারসন শিপইয়ার্ডে স্থানীয়ভাবে জাহাজ নির্মাণ শুরু হবে। এতে অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই যুদ্ধজাহাজগুলো সাবমেরিন শনাক্তকরণ, আক্রমণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষাসহ আধুনিক যুদ্ধের প্রায় সব ক্ষেত্রেই সক্ষম হবে।

অস্ট্রেলিয়া এগুলো ব্যবহার করবে ভারত মহাসাগরপ্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ রক্ষা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Admin

জনপ্রিয় নিউজ

ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি

অস্ট্রেলিয়া–জাপানের ৭ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ চুক্তি: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ

Update Time : 07:06:16 am, Saturday, 18 April 2026

আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াজাপান প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। ২০১৪ সালে সামরিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর এটিকে জাপানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এতে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে নতুন নিরাপত্তা জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে চীন-এর ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, জাপানের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীকে তিনটি আধুনিক মোগামি-শ্রেণির বহুমুখী ফ্রিগেট সরবরাহ করবে। জাপানে নির্মিত এই জাহাজগুলো ২০২৯ সাল থেকে হস্তান্তর শুরু হবে।

এর পাশাপাশি আরও আটটি ফ্রিগেট অস্ট্রেলিয়ার ভেতরেই নির্মাণ করা হবে। প্রথম তিনটি জাহাজ জাপানে তৈরি হলেও পরবর্তীতে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ-এর কাছে হেন্ডারসন শিপইয়ার্ডে স্থানীয়ভাবে জাহাজ নির্মাণ শুরু হবে। এতে অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই যুদ্ধজাহাজগুলো সাবমেরিন শনাক্তকরণ, আক্রমণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষাসহ আধুনিক যুদ্ধের প্রায় সব ক্ষেত্রেই সক্ষম হবে।

অস্ট্রেলিয়া এগুলো ব্যবহার করবে ভারত মহাসাগরপ্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ রক্ষা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে।